স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের পরই বাবাকে হারিয়েছেন লিওনেল মেসি। বাবা হর্হে মেসি ছিলেন আর্জেন্তিনীয় ফুটবল তারকার সর্বক্ষণের সঙ্গী। তাছাড়া মেসির এজেন্টও ছিলেন হর্হে। তাঁকে হারিয়ে একেবারে ভেঙে পড়েছেন মেসি। তারপরই বড়সড় সিদ্ধান্ত নিলেন ইন্টার মায়ামি তারকা। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম দোবলে আমারিয়ার খবর অনুযায়ী, বাবার প্রয়াণের পর ফুটবল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি নিয়েছেন মেসি।
বিশ্বকাপের শেষটা সুখের হয়নি আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকার জন্য। ফাইনালে স্পেনের কাছে হারতে হয়েছে। তারপর ক্লাব ফুটবলে মাঠে নামেন। গোলও পেয়েছেন। তারপরই বাবার মৃত্যু সংবাদ। তড়িঘড়ি মায়ামি থেকে আর্জেন্টিনায় ফিরে যান। ৯ আগস্ট পরিবার, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে হর্হের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। রোজারিওর পাশের শহর পেরেজের ‘এল প্রাদো’ সমাধিক্ষেত্রে অত্যন্ত গোপনে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানে কালো পোশাকে মেসিও ছিলেন।
দোবলে আমারিয়ার খবর অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামির তরফ থেকে মেসিকে অনির্দিষ্টকালের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিনি যতদিন প্রয়োজন মনে করবেন, ততদিন ছুটি নিতে পারবেন। এরপর তিনি এমএলএসের ক্লাবটিতে ফিরবেন। ওই সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, ‘বাবার মৃত্যুর পর মেসি খুব ভেঙে পড়েছেন। এই মুহূর্তে তিনি আর আমেরিকায় ফিরবেন না। পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত ইন্টার মায়ামি থেকে তিনি ছুটিতে থাকবেন।’ অর্থাৎ আমেরিকায় লিগ কাপের আগামী ম্যাচগুলো মেসি খেলবেন না। মেজর লিগ সকারে কবে যোগ দেবেন, বা কবে থেকে ম্যাচ খেলবেন তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
আসলে মেসির জীবনে হর্হের ভূমিকা নিছক বাবার নয়। বলা যায়, তাঁর ফুটবল-জীবনের পথপ্রদর্শক ছিলেন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে কিশোর লিওনেলকে নিয়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর মেসির চোখে জল দেখা যায়। পরিবারের খুব ঘনিষ্ঠ মেসি। বাবার জন্য মরশুমের পরের দিকে আর্জেন্টিনায় পাকাপাকিভাবে ফিরে আসার কথাও ভাবছিলেন। তার আর সুযোগ পেলেন না।