স্পোর্টস ডেস্ক : ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন হলেন এলিনা রিবাকিনা। মহিলাদের সিঙ্গলস ফাইনালে তিনি হারালেন অ্যারিনা সাবালেঙ্কাকে। ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ ব্যবধানে জয় পেলেন কাজাখস্তানের টেনিস খেলোয়াড়। এই নিয়ে তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন রিবাকিনা। বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাব জিতে ছিনিয়ে নিলেন ক্রমতালিকায় শীর্ষ স্থানও। ইউএস ওপেন জয়ের হ্যাটট্রিক করতে না পারার হতাশায় মেজাজ হারালেন সাবালেঙ্কা।
মহিলা টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে টানা তিন বার ইউএস ওপেন জেতার কৃতিত্ব রয়েছে ক্রিস এভার্ট এবং সেরিনা উইলিয়ামসের। তৃতীয় খেলোয়াড় হিসাবে এই নজির ছোঁয়া হল না সাবালেঙ্কার। ফাইনালে হেরে গেলেন শীর্ষ বাছাই। টানা ৯৯ সপ্তাহ বিশ্বের এক নম্বর থাকার পর সেই জায়গাও খোয়ালেন।
২০২২ সালে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন রিবাকিনা। তার পরের ১৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মাত্র একটির ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছোতে পেরেছিলেন। ২৭ বছরের রিবাকিনা আর গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে পারবেন কিনা, সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। তিনি অবশ্য হাল ছাড়েননি। গ্র্যান্ড স্ল্যামের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করে গিয়েছেন। ফল পেলেন চলতি মরসুমে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে শুরু করেন। উইম্বলডন এবং ফরাসি ওপেনে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। আবার ইউএস ওপেন জিতলেন।
এই নিয়ে ১০ বার বিশ্বের এক নম্বরকে হারালেন রিবাকিনা। তার মধ্যে সাবালেঙ্কাই তাঁর কাছে হারলেন ছ’বার। ঠান্ডা মাথার রিবাকিনার টেনিস দক্ষতা নিয়ে সংশয় ছিল না বিশেষজ্ঞদের। তবু বার বার বড় মঞ্চে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ ইউএস ওপেন খেলাই নিশ্চিত ছিল না তাঁর। সিনসিনাটি ওপেনে চোট পেয়েছিলেন। এক সপ্তাহ কোর্টে নামতে পারেননি। তবু নিজের আত্মবিশ্বাস এবং সাপোর্ট স্টাফদের ভরসায় বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেলার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিযোগিতা শুরুর কয়েক দিন আগে প্রস্তুতি শুরু করেন।
মহিলাদের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন বিশ্বের প্রথম এবং দ্বিতীয় বাছাই। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশা ছিল। তেমনই হল। ম্যাচ কখনও রিবাকিনার দিকে ঝুঁকেছে, কখনও সাবালেঙ্কার দিকে। প্রথম দু’টি সেট দু’জনে ভাগাভাগি করে নেন। কিন্তু নির্ণায়ক তৃতীয় সেটে সাবালেঙ্কাকে চেনা মেজাজে দেখা যায়নি। চাপের মুখে ভুল করেছেন। সার্ভিস ঠিকঠাক পড়েনি। রিবাকিনা নিখুঁত টেনিস খেলেছেন এমন নয়। তবে তুলনায় ভাল সার্ভিস করেছেন। ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলেছেন। সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
ইউএস ওপেন জয়ের হ্যাটট্রিক করতে না পেরে মেজাজ হারিয়েছেন সাবালেঙ্কা। খেতাব জিততে না পারা এবং শীর্ষ স্থান হারানোর জোড়া হতাশা গোপন করতে পারেননি। খেলা শেষ হওয়ার পর হতাশায় আছড়ে ভেঙেছেন র্যাকেট। ছবি তুলতে কাছাকাছি যাওয়া সম্প্রচারকারী চ্যানেলের চিত্রগ্রাহকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।
খারাপ ভাবে দূরে সরে যেতে বলেন। প্রথম সেট ৪-৬ ব্যবধানে হারার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দ্বিতীয় সেট ৭-৫ ব্যবধানে ছিনিয়ে নিয়ে লড়াইয়ে ফেরেন। তার পরও তৃতীয় সেটে একপেশে হার। দু’বছর পর ইউএস ওপেন ট্রফি হাতছাড়া হওয়া মেনে নিতে পারছিলেন না।