শিরোনাম
◈ চীন থেকে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন আনার কথা চলছে: বিমানমন্ত্রী ◈ ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বাণিজ্য অংশীদার এখন যুক্তরাষ্ট্র ◈ মাদরাসা নিয়ে বড় পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, বন্ধ হচ্ছে ২৫২টি ◈ আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ ◈ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, একদিনেই ৬ মৃত্যু ◈ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ আটক ৪৭২ ◈ বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী শেভরন ◈ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা ◈ সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচার বাধাগ্রস্ত করা যাবে না: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৮ বিকাল
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে অটো-অ্যাম্বুলেন্সের দখল, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: হাসপাতাল নাকি অটোস্ট্যান্ড—ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বরে প্রবেশ করলেই এমন প্রশ্ন উঠছে রোগী ও স্বজনদের মনে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনের ফাঁকা জায়গা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অ্যাম্বুলেন্স। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন গুরুতর অসুস্থ ও জরুরি রোগীরা।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ও পুরোনো ভবনের নিচের ফাঁকা জায়গার বড় একটি অংশ বিভিন্ন যানবাহনের দখলে রয়েছে। রোগী নামানো বা ওঠানোর পরও অনেক চালক দীর্ঘসময় হাসপাতাল চত্বরেই অবস্থান করছেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী কিংবা স্বজনদের যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় তারা সেখানে অপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

advertisement

জরুরি বিভাগের সামনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সংকটাপন্ন রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের সময় সামনে থাকা রিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের কারণে অনেক সময় যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে রোগীকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়ছেন স্বজনরা।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, যানবাহনের ভিড় এড়িয়ে কখনো কখনো রোগীকে স্ট্রেচারে করে কিংবা কোলে তুলে হাসপাতালের ভেতরে নিতে হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে কয়েক মিনিটের দেরিও যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে প্রবেশপথে যানবাহনের এমন অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

advertisement

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ষাটোর্ধ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, “বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে এসে একটু শান্তিতে বিশ্রাম নেব, সেটাও পারছি না। দিন-রাত গাড়ির হর্ন বাজে, চালকেরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করেন। এতে মাথা ধরে যায়, বুক আরও ধড়ফড় করে। হাসপাতাল নাকি বাসস্ট্যান্ড—বোঝার উপায় নেই এখানে।”

শুধু যানবাহনের জট নয়, হাসপাতাল চত্বরে অপ্রয়োজনীয় হর্ন, চালকদের উচ্চস্বরে ডাকাডাকি ও যাত্রী ডাকার কারণে চিকিৎসার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

advertisement

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য এই শব্দদূষণ বাড়তি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের বিশ্রাম ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও হাসপাতালের ভেতরে সারাক্ষণ যানবাহনের শব্দ থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্বজনরা।

এক রোগীর স্বজন কাকলি চৌধুরী বলেন, “আমাদের রোগীকে নিয়ে যখন হাসপাতালে আসি, তখন প্রথমেই গাড়ির জটের মুখে পড়তে হয়। রোগী যদি গুরুতর হয়, তখন কয়েক মিনিটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়। অথচ হাসপাতালের গেট থেকে জরুরি বিভাগ পর্যন্ত যেতে যদি গাড়ির ভিড় সামলাতে হয়, তাহলে এর থেকে আর কষ্টদায়ক কী হতে পারে।”

অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদেরও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আনসার সদস্য বলেন, “রোগী নিয়ে আসার পর অনেক চালক গাড়ি নিয়ে আর বের হতে চান না। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী বা স্বজনদের যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় তারা চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকেন। গাড়ি সরাতে বললে অনেক সময় বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সীমিত জনবল দিয়ে এতগুলো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা বড়ই কঠিন।”

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের সীমানা ঘেঁষে অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকার পরও অনেক অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের মূল চত্বরেই অবস্থান করছে। ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

রোগী ও স্বজনদের দাবি, জরুরি বিভাগের সামনে কোনো যানবাহন দাঁড়াতে না দেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় রিকশা ও ইজিবাইকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

তাদের মতে, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বর হওয়া উচিত জরুরি রোগীর দ্রুত চলাচল, চিকিৎসকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং রোগীদের শান্তিপূর্ণ চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করার জায়গা। সেখানে অটো-ইজিবাইক, অ্যাম্বুলেন্সের জট আর হর্ন-হাকডাক নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও বাড়বে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে প্রতিবেদকের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

অন্যদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “হাসপাতালে বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরিচালক স্যারের সঙ্গে কথা বললেই ভালো হবে।”

তবে তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আমরা বরাবরের মতোই বিষয়গুলো তুলে ধরি। মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেহেতু আবার নতুন করে হাসপাতাল চত্বরে ইজিবাইক এবং মাইক্রোবাস পার্কিং শুরু হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

রোগী ও স্বজনরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরকে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের দখলমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি বিভাগের সামনে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

  • সর্বশেষ