স্পোর্টস ডেস্ক : মহিলাদের রান্নাঘরেই থাকা উচিত। মহিলাদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার শাহীদ আফ্রিদির। গোটা বিশ্বেই পুরুষ-মহিলা সমান-সমান। কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে লড়াই করছে। ক্রিকেটও তাই। আর সেখানে প্রাক্তন পাক তারকার লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য তাঁর মানসিকতারই প্রকাশ। অবশ্য আফ্রিদি একা নন। এর আগে অন্য পাক ক্রিকেটাররাও এরকম নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন।
আফ্রিদির মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে মহিলা ক্রিকেটারের উন্নতিতে বিনিয়োগ করছে জয় শাহর আইসিসি। মহিলা ক্রিকেটারের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। চলছে মহিলাদের এশিয়া কাপ। গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে হারলেও পাকিস্তান মহিলা দল সেমিফাইনালে উঠেছে। তার মাঝেই চর্চায় আফ্রিদির কুরুচিকর মন্তব্য। -- সংবাদপ্রতিদিন
পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমে আফ্রিদি বলেছিলেন, ক্রিকেট রক্তে থাকতে হয়। নাহলে খেলা যায় না। আমাদের মহিলারা রান্না ভালো করে। যেমন চিনের লোকেরা অনেক উন্নতি করতে পারে। কিন্তু ওদের রক্তে ক্রিকেট নেই। ওরা কোনও দিন ক্রিকেটার হতে পারবে না। দেখুন, সোজা কথা। আমাদের মহিলারা রান্না ভালো করে। সেটাই করো। রান্নাঘরেই থাকো।" তবে এই সাক্ষাৎকারটি একবছরের আগে। মহিলা এশিয়া কাপের সময় তা আবার ফিরে এসেছে।
কিন্তু তাতে আফ্রিদির মানসিকতার উদাহরণ পাওয়া যায়। এর আগেও তিনি এই মন্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। প্রাক্তন পাক অলরাউন্ডারের যুক্তি ছিল, পুরো সাক্ষাৎকার অন্য বিষয়ে ছিল। ওই নির্দিষ্ট অংশের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি ধারাবাহিকভাবে মহিলা ক্রিকেটকে সমর্থন করে এসেছে। এমনকী মহিলা ক্রিকেটারদের স্পনসরশিপ সমস্যার সমাধানও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি। আফ্রিদির মন্তব্য ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড়।
অবশ্য পাক ক্রিকেটারদের এহেন মন্তব্য নতুন কিছু নয়। ২০২৩-র ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান চরম ব্যর্থ হয়। তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রাক্তন পাক অলরাউন্ডার আবদুর রাজ্জাক বলেন, “ক্রিকেটারদের উন্নতির চেষ্টাই করে না পাকিস্তান বোর্ড। যদি কেউ মনে করে ঐশ্বর্য রাইকে বিয়ে করলেই সন্তান সুন্দর দেখতে হবে, সেটা কখনই সম্ভব নয়।” এমন মন্তব্যের ফলে ঐশ্বর্য ও তাঁর পরিবারের সকলের অপমান হয়েছে।
তার পরের বছর লিঙ্গবিদ্বেষী মন্তব্যে বিতর্কে জড়ান আরেক পাক প্রাক্তনী সইদ আনোয়ার। তিনি বলেছিলেন, “পাকিস্তানে মহিলারা বাইরে কাজ শুরু করার পর ডিভোর্সের পরিমাণ ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এখন স্ত্রীরা স্বামীকে বলেন, ‘তোমরা যা খুশি করো, আমি নিজের মতো সংসার চালাব’। এটা একটা বড় খেলার অংশ।” তাঁর আরও বক্তব্য ছিল, "অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের লোকেরা মহিলাদের টাকার জন্য কাজে পাঠান।
পাকিস্তানের নারী স্বাধীনতা এমনিতেও প্রশ্নের মুখে। বহু সমস্যার মুখে পাক মহিলা ক্রিকেট দলও। কয়েক বছর আগে এক মহিলা ক্রিকেটারকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের এক জাতীয় পর্যায়ের কোচের বিরুদ্ধে। দলে সুযোগ দেবেন এবং বোর্ডে কাজেরও ব্যবস্থাও করে দেবেন। এই বলে যৌন হেনস্তা করেন। এর আগে ২০১৪ সালে পাঁচ মহিলা ক্রিকেটার মুলতান ক্রিকেট ক্লাবের পাঁচ প্রশাসকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছিলেন।
পাক পুরুষ দলও কম যায় না। চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলেছিল শ্রীলঙ্কায়। সেখানে এক মহিলা হোটেল কর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে পাক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। হাউসকিপিংয়ের কর্মী ওই মহিলার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন পাক ক্রিকেটার। সাহায্য চেয়ে চিৎকার করেন ওই মহিলা। হোটেলে থাকা অন্যান্যরা গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। তবে সেই ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এমনকী বাবর আজমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল।