স্পোর্টস ডেস্ক: এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টেও বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংল্যান্ড। টেস্টের চতুর্থ দিনে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছে ইংলিশরা। শনিবার প্রথম সেশনেই ১৩০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা। লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারালেও জো রুট ও জর্ডান কক্সের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে সহজ জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাগতিকদের হাতে। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ইংল্যান্ড তোলে ৪৫৩ রান। ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়া পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪৪৯ রান করে। সিরিজের প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারায় ইংল্যান্ড।
এরপর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের জয় পায় তারা। শেষ টেস্টেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল স্বাগতিকরা। লিডসে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৬৬ রানের ইনিংস দিয়ে শুরু করেছিলেন রুট। শেষ টেস্টেও ফিফটি দিয়ে সিরিজ শেষ করলেন ইংলিশ অধিনায়ক। ৮টি চারের সাহায্যে ৬২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
অন্যদিকে সিরিজে নিজের তৃতীয় ফিফটি তুলে নিয়ে ৮টি চারে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন জর্ডান কক্স। রুটের সঙ্গে তার ১২৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ইংল্যান্ডকে বড় জয় এনে দেয়।
প্রথম ইনিংসে ৬৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান ড্যান লরেন্স। সিরিজসেরার পুরস্কার যৌথভাবে জেতেন পাকিস্তানের মোহাম্মাদ আব্বাস ও ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন।
১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম বলেই কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন ডাকেট। এরপর ওভারের শেষ বলে এমিলিও গেকে এলবিডব্লিউ করেন মোহাম্মাদ আব্বাস। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন রুট ও কক্স। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই রাজাউল্লাহকে চার মেরে রানের খাতা খোলেন রুট। তিন বল পর পাকিস্তানের তরুণ এই পেসারকে আরও একটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। কক্সও শুরু করেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। প্রথম ঘণ্টায় আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি তারা।
মোহাম্মাদ ইমরানকে চার মেরে ৫৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রুট। এরপর সাইম আইয়ুবকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৬৮ বলে পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছান কক্স। এরপর আর তাদের জুটি ভাঙতে পারেনি পাকিস্তানের বোলাররা। শেষ পর্যন্ত ২৫তম ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের কৃতিত্ব অর্জন করে ইংলিশরা।