স্পোর্টস ডেস্ক : নারী ক্রিকেটারদের মাতৃত্বকালীন সময় এবং সন্তান জন্মের পর আবারও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার পথ আরও সহজ করতে নতুন নীতিমালা সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আইসিসির মেডিকেল অ্যাডভাইজরি কমিটির তত্ত্বাবধানে এবং অস্ট্রেলিয়া নারী দলের চিকিৎসক ডা. ফিলিপা ইনজের নেতৃত্বে ‘রিটার্ন টু প্লে পোস্ট-প্রেগন্যান্সি গাইডলাইন’ নামে নতুন এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় ছয় ধাপের ‘রিটার্ন টু প্লে’ মডেল সামনে আনা হয়েছে। ‘রেডি’, ‘রিভিউ’, ‘রিস্টোর’, ‘রিকন্ডিশন’, ‘রিটার্ন’ এবং ‘রিফাইন’—সন্তান জন্মের পর এই ছয়টি ধাপের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন নারী ক্রিকেটাররা। এসময় প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য কোনো চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টকে কেইস ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
আইসিসি জানিয়েছে, গর্ভধারণের বিষয়টি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই খেলোয়াড়ের। বোর্ড চাইলেই কোন খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলক গর্ভধারণ পরীক্ষা করাতে পারবে না। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভাবস্থায়ও অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
এ বিষয়ে নীতিমালা প্রস্তুতকারী ডা. ফিলিপা ইনজে জানান, সন্তানধারণ যেন কোনো নারী ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের সমাপ্তির কারণ না হয়।
তিনি বলেন, 'আইসিসির লক্ষ্য, খেলোয়াড়দের দেখানো যে সন্তান জন্ম দেওয়া মানেই ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়। আমরা চাই আইসিসির সদস্য দেশগুলো এমন পরিবেশ তৈরি করুক, যাতে নারী ক্রিকেটাররা সন্তান জন্মের পর আবারও খেলায় ফিরতে পারেন।
এদিকে আইসিসির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ২০২১ সালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনার আফি ফ্লেচার। তার মতে, 'বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডগুলোর জন্য আইসিসির এই নতুন নীতিমালা খুবই ইতিবাচক। এতে পরিবারের পাশাপাশি আবারও ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে নারী ক্রিকেটারদের জন্য।--- ডেইলি ক্রিকেট