শিরোনাম
◈ তুচ্ছ ঘটনায় বারবার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ◈ পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে কক্সবাজারগামী ট্রেনে বসছে সিসি ক্যামেরা ◈ গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি ◈ দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি ◈ ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক দাম ও কৃত্রিম সংকট নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, ব্যবসায়ীদের যা বললেন ◈ জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, আবেদন করতে পারবেন যারা ◈ আকাশসীমার জটিলতা কাটল, ১ অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম ◈ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জন্য প্রস্তুত: পাকিস্তানকে রাজনাথ সিংয়ের কড়া বার্তা ◈ এবার লাইভে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া বার্তা দিলেন সালমান মুক্তাদির! (ভিডিও) ◈ অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে: ৩৯৬ কোটিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নতুন গতি, দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৫৫ রাত
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকা‌পে ভার‌তের বিরু‌দ্ধে জেতা ম‍্যাচ হারলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতের বিরুদ্ধে কী ভাবে জেতা ম্যাচ হারতে হয়, দেখাল বাংলাদেশ। ঠিক যে ভাবে ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ভারতের বিরুদ্ধে ৩ বলে ২ রান করতে পারেনি তারা। পর পর তিন উইকেট হারিয়ে ১ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ঠিক একই ভাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ৭০ বলে ৭৫ রান দরকার ছিল তাদের। হাতে ছিল ৮ উইকেট। সেই ম্যাচ জিততে পারল না বাংলাদেশ। 

পর পর উইকেট হারিয়ে ১৮ রানে হারল তারা। এই হারের জন্য নিজেদের ছাড়া আর কাউকে দায়ী করতে পারবে না বাংলাদেশ। ভারত আরও এক বার দেখিয়ে দিল, কঠিন পরিস্থিতিতে কী ভাবে চাপ সামলে খেলা জিততে হয়।

বৃষ্টির কারণে যখন খেলা বন্ধ ছিল, তখন দেখে মনে হচ্ছিল, ম্যাচের রাশ ভারতের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার পর বদলে গেল ছবি। ভারতের স্পিনারেরা চাপ বাড়াতে থাকলেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের উপর। চাপে পড়ে একের পর এক উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ২২ রানে শেষ ৭ উইকেট পড়ল তাদের। বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরল বৈভব সূর্যবংশী। 

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে সূর্যকুমার যাদবের সেই ক্যাচের স্মৃতি ফেরাল সে। নাটকীয় ভাবে ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে বাংলাদেশকে হারাল ভারত। ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পর পর দু’ম্যাচ জিতে গ্রুপ শীর্ষে ভারত।

advertisement

২৩৯ রান তাড়া করতে নেমে ওপেনার আবরার রান না পেলেও রিফাত বেগের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। ৬১ রানের জুটি বাঁধেন তাঁরা। ভারতীয় বোলারদের সামনে অহেতুক তাড়াহুড়ো করেননি দুই ব্যাটার। রিফাত ৩৭ রান করে আউট হলে কালাম সিদ্দিকির সঙ্গে জুটি বাঁধেন হাকিম। তার পরেই শুরু হয় বৃষ্টি। খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশের রান ছিল ১৭.২ ওভারে ২ উইকেটে ৯৮।

বৃষ্টিতে ওভার কমে। ফলে ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে লক্ষ্য হয় ২৯ ওভারে ১৬৫ রান। অর্থাৎ, ৭০ বলে ৭৫ রান করতে হত বাংলাদেশকে। রান কমে গেলে সাধারণত ব্যাটিং দলের সুবিধা হয়। এ ক্ষেত্রে সেই সুবিধা বাংলাদেশ পেয়েছিল। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারল না তারা।

দ্বিতীয় বার খেলা শুরু হওয়ার পর একের পর এক উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ভারতের বিহান মলহোত্র নজর কাড়লেন। চার ওভার বল করে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেন তিনি। খিলান পটেল নিলেন ২ উইকেট। বাংলাদেশের শেষ ভরসা ছিলেন হাকিম। কিন্তু খিলানের ফুলটসে ৫১ রানের মাথায় আউট হলেন তিনি।

ফিল্ডিংও ভাল করল ভারত। বাউন্ডারিতে বৈভব ও বিহান দুর্দান্ত ক্যাচ ধরল। একটা সময় মনে হচ্ছিল, মাথা কাজ করছে না বাংলাদেশের ব্যাটারদের। সেই চাপ কাটিয়ে উঠতে পারলেন না তাঁরা। জেতা ম্যাচ হারলেন তাঁরা।

জিতলেও ভারতকে চিন্তায় রাখবে তাদের ব্যাটিং। বৈভব ও অভিজ্ঞান ছাড়া কেউ ভরসা জোগাতে পারলেন না। বৈভব শুরু থেকে ভাল খেলছিল। 

অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে, বেদান্ত ত্রিবেদী, বিহান মলহোত্র রান না পেলেও বৈভব সাবলীল ব্যাট করছিল। বড় শটের পাশাপাশি দৌড়ে রানের দিকেও নজর দিয়েছিল। কিন্তু ৬৭ বলে ৭২ রান করে ইকবাল হোসেন ইমনের বল মিড উইকেটের উপর দিয়ে ওড়াতে গিয়ে আউট হয় বৈভব। ইনিংসে ছ’টি চার ও তিনটি ছক্কা মারে সে।

মাঝের ওভারে পর পর উইকেট হারিয়ে ভারত চাপে পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে দলকে টানেন বাঙালি অভিজ্ঞান। আগের ম্যাচেও অর্ধশতরান করে ভারতকে জিতিয়েছিলেন তিনি। এই ম্যাচেও নিজের দক্ষতা দেখালেন অভিজ্ঞান। শুরুতে তাঁর রান তোলার গতি কম থাকলেও পরের দিকে হাত খোলেন এই বাঁহাতি। তিনি জানতেন, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে। সেই চেষ্টাই করেন তিনি। তবে তিনি অপরাজিত থাকতে পারেননি। ১১২ বলে ৮০ রান করে আউট হন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দেন কণিষ্ক চৌহান। তাঁদের ব্যাটে ২০০ পার হয় ভারতের। 

শেষ দিকে দীপেশ দেবেন্দ্রন দলকে ২৩৮ রানে নিয়ে যান। তবে পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারেনি ভারত। ৪৮.৪ ওভারে অল আউট হয়ে যায় তারা। বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট নেন আল ফাহাদ। তার পরেও হেরে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁদের।

  • সর্বশেষ