শিরোনাম
◈ ‌লিগ কাপ থে‌কে বিদায় নি‌য়ে ৫০ বছর আগের দুঃসহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনলো ম‌্যান‌চেস্টার ইউনাইটেড ◈ তিন বছর পর আইপিএলের নিলাম ফিরছে ভারতে, ডিসেম্বরে হবে ক্রিকেটারদের কেনাবেচার প্রতিযোগিতা ◈ জাতিসংঘ অধিবেশন: এবারও মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র ◈ ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ৪ হাজার টন ডিজেল এলো বাংলাদেশে ◈ র‍্যাব বদলে এসআরবি, সদস্যদের শাস্তির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে যা আছে ◈ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ‘শেষের দিকে’, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দাবি ট্রাম্পের ◈ গরম নিয়ে স্বস্তির বার্তা, ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি ঝড়ের আভাস ◈ মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল পাস, ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্কের মুখে ভারত ◈ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে আগস্টে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি ◈ বন্যায় নিহতদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশ-নেপাল ‌টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি সিরিজ আগামী মা‌র্চে

প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ দুপুর
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশেষ গোয়েন্দা বেষ্টনীতে শেখ হাসিনা, নাশকতার জন‌্য বাংলা‌দে‌শে পুলিশ-শ্রমিক মু‌খোমু‌খি করার ছক তৈরি হ‌চ্ছে

ডেস্ক রি‌পোর্ট: সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডকে সাধারণ ঘটনাই ভাবছে আওয়ামী লীগ। ৭ আসামির সবাই পলাতক। ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত এবং তা জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আদেশকেও বড় ঘটনা মনে করে না তারা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রায় ১০ মাস পর ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার এ রায় হলো।

advertisement

শেখ হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির মধ্যেও ১১ জনই পলাতক। তাই আওয়ামী লীগের ভাবনার জগতে এখন গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারের সংকট নিয়ে উত্তেজনা ও আশঙ্কা, রাস্তায় আন্দোলনের হুমকি-ধমকি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আর দ্রব্যমূল্য নিয়ে জন-অসন্তোষকে পুরোপুরি কাজে লাগানো। রাজনীতির মাঠে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দেওয়া।  সেখানে যোগ হবে আরও ঘটনা। ----- ঠিকানা/ নিউইয়র্ক

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান এবং এর বিভিন্ন সময়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের হত্যার বিচার দাবিকে আবার সামনে আনা হচ্ছে। সরকার থেকে আগেই জানিয়ে রাখা হয়েছে, ২০২৪ সালে সংঘটিত পুলিশ হত্যার সুনির্দিষ্ট তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রয়েছে। সেগুলোর সঠিক তদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুত বিচারও হবে। নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে যেমন আলোচনা রয়েছে, তেমনি অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষ থেকে অভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করার পর পুলিশ হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার দাবিও উঠেছে।

advertisement

চব্বিশের আন্দোলনের পিক আওয়ারে ১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ সংশ্লিষ্ট ঘটনার জন্য কোনো মামলা, গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হবে না—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া ঘটনাচক্রে এমন এক বার্তা নতুন করে সামনে আনা হচ্ছে। নোয়াখালীতে পুলিশ হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এমন নির্দেশনা আসে।

সম্প্রতি নতুন করে সামনে আনা হচ্ছে তখনকার বিভিন্ন থানায় হামলা-আগুন, পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা, হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার কিছু ঘটনা। এসবের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। প্রথমত, পুলিশের ভেতর উত্তেজনা তৈরি করা। সম্ভব হলে বিদ্রোহ ঘটিয়ে দেওয়া। পুলিশ হত্যার বিচার, পোশাক পরিবর্তন, কথায় কথায় বদলি এবং চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদকে মোক্ষম করার চেষ্টা চলছে পুরোদমে। 

advertisement

গুলশানে আওয়ামী লীগের আকস্মিক মিছিলের পর সেখানকার ওসি বদলকে পুলিশের ভেতর বড় ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

তা দেখভালে আছেন আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ পুলিশের সাবেক-বর্তমান কয়েক কর্মকর্তা। দেশ-বিদেশে অনেক আয়োজনে ব্যস্ত তারা। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে শেখ হাসিনার একটি একান্ত কনফারেন্স হওয়ার কথা। 

সামনে পুলিশকে দিয়ে একটি অঘটনের ছক বেশ জোরদার। আর সাথে ভেড়ানো হবে শ্রমিকদের। তাই শ্রমিক শ্রেণির ওপর কিছু এক্সপেরিমেন্ট এরই মধ্যে চালানো হয়েছে। ফলও মিলছে। সেখানে টোকা দিলেই আওয়াজ হচ্ছে। কারণ দেশের শ্রমিক শ্রেণির মাঝে ভীষণ রকমের অসহায়ত্ব যাচ্ছে। লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন। ছোট-বড় শত শত মিল-কারখানা বন্ধ। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে আরও অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হতে থাকে। বহু মালিক ঘোষণা দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। যেসব কারখানা এখনো খোলা রয়েছে, সেসব কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না ঠিকমতো। 

এ ইস্যুটি সুনিপুণভাবে কাজে লাগাতে চায় আওয়ামী লীগসহ একাধিক গ্রুপ। ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ড্রাইভারদের এ ছকে একাত্ম করে নেওয়া হয়েছে আরও আগেই। নানা দিকে ডালপালা তাদের। বিভিন্ন জায়গায় তাদের দিয়ে নানা ঘটনাই নয়, দলীয় সাংগঠনিক কাজেও লাগানো হচ্ছে সুকৌশলে।

এ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য হাতে পেলেও সরকার তাদের বিষয়ে অ্যাকশনে যেতে পারছে না। 

এ রকম সময়েই নানান জায়গায় ভেচকির মতো ঘটনা। তা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ও বাসভবন এলাকা গুলশানেও। গুলশানে আওয়ামী লীগের গেরিলা টাইপ মিছিলের পর অনেককেই গ্রেফতার করা হলে এদের কেউ কেউ বলেছেন, ওই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্যসহ কিছু ‘বড় ভাই’ তাদেরকে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিছিলে নামালেও গ্রেফতার ঘটনার পর ওই ‘বড় ভাই’রা ফোন ধরছেন না, আইনি সহায়তা দিচ্ছেন না। 

এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এরই মাঝে পৌঁছে গেছে শেখ হাসিনার কাছে। এ ছাড়া দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ নেতাকে জরুরি তলবও করেছেন শেখ হাসিনা। বৈঠকের বিষয় যাতে বাইরে না যায়, এ জন্য অংশগ্রহণকারীদের মোবাইল ফোন, ঘড়িসহ ইলেকট্রনিক যেকোনো ডিভাইস সাথে নিতে দেওয়া হবে না। বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে ভারতের চৌকস একদল গোয়েন্দা। এমনকি বৈঠকের ভ্যেনুও এখন পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীদের জানানো হচ্ছে না। তবে অংশগ্রহণ করা নেতাদের মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করার আয়োজন চলছে শেখ হাসিনার নির্দেশে।

এই বৈঠকের দিকে নজর দিল্লিতে অবস্থানরত পশ্চিমা ও বিদেশি কূটনীতিকদের। অন্যদিকে গুলশানের বাসভবন এখন প্রধানমন্ত্রীর জন্য কতটা নিরাপদ—এ প্রশ্নও ঘুরছে। কেবল দল নয়, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও মনে করছে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেই এই গুলশানের বাসভবনে। তাই অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সুরক্ষিত বাসভবন খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান এই বাড়িতে ওঠেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান গুলশানের বাসভবন ছেড়ে যমুনায় উঠতে চেয়েছিলেন। ইউনূস চলে যাওয়ার পর তারেক রহমানের সেখানে থাকার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী যমুনা সংস্কারও করা হয়েছিল। কিন্তু যমুনার চারপাশে মিছিল ও সমাবেশ হয়, এ কারণে শেষ পর্যন্ত যমুনায় ওঠেননি তারেক রহমান। 

জনসমাবেশ এড়াতে তাকে গুলশানে থাকার পরামর্শ দেয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। কিন্তু এখন গুলশানের বাসাটিকেও নিরাপদ মনে করা হচ্ছে না। তারেক রহমান তেমন প্রটোকল মানেন না। বাসভবন থেকে হেঁটে গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে চলে যাওয়ার ভিডিও ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে ইতিবাচক অর্থে।

  • সর্বশেষ