মনিরুল ইসলাম: গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজপথে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব-এ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত “সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট—সরকার ও জনগণের করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, বর্তমান সংকট সরকারের তৈরি নয়; বরং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা এবং মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে সরকার সংকট সমাধানে বসে নেই—ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব বাস্তবতা উপেক্ষা করে কিছু মহল রাজনৈতিকভাবে ইস্যুটি ব্যবহার করছে এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, যা গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দলের সরকারের সমালোচনার অধিকার থাকলেও তা হতে হবে গঠনমূলক এবং দায়িত্বশীল।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে এলএনজি আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে এবং মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন উৎস থেকে গ্যাস আমদানির জন্য যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে।
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। বৈশ্বিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ কারিগরি সমস্যার সম্মিলিত প্রভাবেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের অতীত অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন না করেও ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পেয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এসব প্রকল্পের সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম, পুলিশ প্রশাসনসহ সব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক করতে না পারলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না।
এ সময় সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে পুলিশ প্রশাসনকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গেও কথা বলেন রিজভী। তার মতে, অতীতে দলীয় আনুগত্য ও প্রভাবের ভিত্তিতে গণমাধ্যম পরিচালনার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
চলমান সংকট মোকাবিলায় নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সচেতন ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। সভাপতিত্ব করেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও চিত্রনায়ক হেলাল খান। এছাড়া বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, মীর শরফত আলী সপু, শামীমুর রহমান শামীম, ইথুন বাবু, ইন্জিনিয়ার জাকির হোসেন, গিয়াসউদ্দিন, জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।