শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার,কুমিল্লা : কুমিল্লার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সড়ক ঘিরে সন্ধ্যার পর জমে ওঠে তরুণ-তরুণী ও বাইকারদের আড্ডা। চা-কফির দোকানের আড়ালে সেখানে চলছে মাদক বেচাকেনা ও সেবনের অভিযোগ। আমতলী থেকে সীমান্তমুখী বিবির বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা শতাধিক ভাসমান ও স্থায়ী দোকানকে ঘিরে প্রকাশ্যেই চলছে এ কারবার। অভিযোগ রয়েছে, চায়ের কাপে মদ সরবরাহের পাশাপাশি সিগারেটের ভেতর ইয়াবা বা গাঁজা ভরে দুই শলাকা বিক্রি করা হচ্ছে ৬০০ টাকায়।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে
এলাকাটি। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত গোমতী বেড়িবাঁধ সড়ক থাকে অনেকটাই নীরব। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো চিত্র। রাত নামলেই আলো ঝলমলে শতাধিক চায়ের দোকানে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস নিয়ে সেখানে আসেন অনেকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকা রাতের আঁধারে পরিণত হয় মাদকসেবন ও বিক্রির অন্যতম স্পটে।
অনেক তরুণ মোটরসাইকেল রেখে চলে যান নদীর নির্জন চর ও আশপাশের এলাকায়। বেড়িবাঁধ ও নদীর চরে চলে মাদক বেচাকেনা। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন কয়েকশ মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস নিয়ে হাজারো মানুষ এসব এলাকায় ভিড় করেন। চায়ের দোকান এবং আশপাশের চর ও বাড়িঘরে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, স্কার্প ও হুইস্কি বিক্রি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গোমতী পাড়ের একটি চায়ের দোকানে দেখা যায়, দুটি সাধারণ সিগারেটের দাম চাওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা।
পরে জানা যায়, সিগারেটের স্টিকের ভেতর ইয়াবা অথবা গাঁজা ভরে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। মাদক বিক্রির এ কৌশল ব্যবহার করায় অনেক সময় বাইরে থেকে বিষয়টি বোঝার উপায় থাকে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারত সীমান্তের গোলাবাড়ী ও বিবিরবাজার এলাকা থেকে এসব মাদক
বেড়িবাঁধের দোকানগুলোতে আসে। শুভপুরের বাসিন্দা হানিফ চৌধুরী বলেন, গোমতী বাঁধের দোকানগুলোতে প্রতি কাপ চা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তাঁর দাবি, চায়ের পরিবর্তে চায়ের কাপে মদ সরবরাহ করা হয়। সিগারেটের মধ্যেও গাঁজা বা ইয়াবা ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি জানলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়াও গোমতী বাঁধে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, শত শত মোটরসাইকেল আরোহী মাদকসেবনের জন্য সেখানে আসছেন। এতে তরুণ সমাজ নষ্ট হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য এসব কারবারির বিষয়ে জানেন; কিন্তু মোটা অঙ্কের মাসোহারার বিনিময়ে তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশের চায়ের দোকানগুলোতে মাঝেমধ্যে মাদক বিক্রির খবর পাওয়া যায়। পুলিশও এসব দোকানে অভিযান চালায়।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। মাদক বিক্রেতারা নানা কৌশল অবলম্বন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের শনাক্ত করে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।