শিরোনাম
◈ রাতের আঁধারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ ◈ ছয় মাসেও বদলায়নি ঢাবির শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচ স্থাপনার নাম ◈ বিদেশে কর্মী পাঠানো কমেছে ৩৬ শতাংশ, বাড়ছে কর্মসংস্থানের সংকট ◈ আফগা‌নিস্তা‌নের বিরু‌দ্ধে ৩১৭ রানে দিন শেষ বাংলাদেশের ◈ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী শহর সিঙ্গাপুর যে কারণে এখন সবচেয়ে দূষিত! ◈ আশুলিয়ায় ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, সাড়ে ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ দত্তকের নামে ঢাকায় শিশু কেনাবেচার রমরমা বাণিজ্য, ছেলে ৩–৫ লাখ টাকায় বিক্রি ◈ স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: বিপদ জেনেও কেন ঘটনাস্থলে সিএনজি অটোরিকশা ফেলে যেতে হলো জানা গেল কারণ ◈ ট্রাম্পের পরা স্যুট বাংলাদেশে তৈরি, বিশ্ববাজারে পোশাকশিল্পের সাফল্য আলোচনায়! ◈ ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে বাধা দূর ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৫২ সকাল
আপডেট : ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৫২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শুভ মহালয়া আজ, দেবীপক্ষের সূচনায় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা

মনিরুল ইসলাম : শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, শিশিরভেজা শিউলি ফুল আর আগমনী সুর—সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গোৎসবের আবহ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে আজ  শনিবার শুভ মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষার বিশেষ পর্ব।

মহালয়াকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে আয়োজন করা হয়েছে ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ভোরে চণ্ডীপাঠ, মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানাবেন ভক্তরা। একই সঙ্গে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় অনেকে করবেন তর্পণ।

দুর্গাপূজার মূল আয়োজনকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। কোথাও চলছে রং করার কাজ, কোথাও প্রতিমাকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে শাড়ি ও অলংকারে। পাশাপাশি মণ্ডপ নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।

মহালয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ

Advertisement

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এই দিন থেকেই দুর্গাপূজার আগমনী আবহ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আবাহন দুর্গোৎসবের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্য।

মহালয়াকে কেন্দ্র করে অনেক ভক্ত প্রয়াত বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেন। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। মন্দিরগুলোতেও আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনা ও পূজার।

দুর্গাপূজার গুরুত্বপূর্ণ পর্বগুলোর মধ্যে রয়েছে মহালয়া, বোধন ও সন্ধিপূজা। মহালয়া দেবীপক্ষের সূচনাকে নির্দেশ করে, আর বোধনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক পর্ব এগিয়ে যায়।

মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, রাজারবাগ কালীমন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপে চলছে প্রস্তুতি।

প্রতিমাশিল্পীরা তৈরি করছেন দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা। কোথাও দেবী দুর্গার প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড় দেওয়া হচ্ছে, কোথাও চলছে অলংকার ও পোশাক পরানোর কাজ। একই সঙ্গে মণ্ডপের সাজসজ্জা, প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজও এগিয়ে চলছে।

আয়োজকদের ব্যস্ততার পাশাপাশি উৎসবকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কেউ নতুন পোশাক কেনাকাটায় ব্যস্ত, কেউ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করছেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উৎসবের বাড়তি উচ্ছ্বাস।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ আয়োজন

মহালয়া উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে মহালয়ার মূল অনুষ্ঠান, পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তিল-তর্পণ, ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার আয়োজন রয়েছে। এসব আয়োজনে অংশ নেবেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।

মহালয়ার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মন্দির এলাকায় ধর্মীয় আবহ তৈরি হবে। চণ্ডীপাঠ, মন্ত্রোচ্চারণ ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনকে স্বাগত জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

সারা দেশে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে পূজামণ্ডপের সংখ্যা ২৫৯টি। গত বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। পূজামণ্ডপের সাজসজ্জা, প্রতিমা নির্মাণ ও ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুতি

দুর্গাপূজা আনন্দ ও সম্প্রীতির উৎসব হলেও বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উৎসব নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পূজা উদযাপনের সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দেবীপক্ষের আবহ আগামী দিনগুলোতে আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। পূজার ঘণ্টা, ঢাকের বাদ্য আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠবে মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার সেই প্রতীক্ষায় এখন দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

এদিকে, মহানগর সার্বজনিন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, শনিবার সকাল ৬টায় মহালয়ার মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবীর আগমন ঘটবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্টী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী এবং ২০ অক্টোবর মহানবমী পূজা হবে। এরপর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর পূজা শেষে মা দূর্গা আবারো কৈলশে ফিরে যাবেন। ওইদনি প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৬ দিনব্যাপী দূর্গোৎসবের সমাপ্তি হবে।

মহালয়া উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। সকাল ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত মহালয়ার মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার শ্রী দিনেশ ত্রিবেদী। সকাল সাড়ে ৭টায় পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তিল-তর্পণ এবং সকাল ৯টায় ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার আয়োজন রয়েছে।

  • সর্বশেষ