শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে টমেটো ও আলুর সংগ্রহ-পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট এক-তৃতীয়াংশ ধানে ১০.২৪% ◈ ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম‌্যাচ সন্ধ‌্যায়, মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ ও জিম্বাবু‌য়ে ◈ মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত ◈ আগামী ২৪ ঘণ্টায় যেসব বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে ◈ উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, মাদক সিন্ডিকেট ও দখলদারি নিয়ন্ত্রণে ‘দে লাড়া’ গ্রুপ (পিচ্চি সানি) ◈ ইমরান খান, ক্যালিস, ও সোবার্সের তালিকায় সাকিব আল হাসান ◈ ভারত কোটি টাকা আয় করবে, আর বঞ্চিত হ‌বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ? ◈ হুতির হামলা আম‌লে নি‌চ্ছে না  সৌ‌দি আরব, যথাসময়ে এশিয়ান কাপ ফুটবল আয়োজনের ঘোষণা ◈ উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নিখুঁত হামলা, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধপরিকল্পনা ◈ গণপিটুনিতে ৯ মাসে ১৭১ মৃত্যু, ‘মব’ কি সংঘবদ্ধ অপরাধের নতুন কৌশল?

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৪ দুপুর
আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৪ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী আজ, নবপত্রিকা পূজায় শুরু দিনের প্রধান আচার

মনিরুল ইসলাম : শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহাসপ্তমী আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর)। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে দেবী দুর্গার আরাধনা, নবপত্রিকা পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও আরতির মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে দিনটি। তবে এ বছর তিথিচক্র অনুযায়ী, সপ্তমী তিথি আগামীকাল রোববারও থাকবে।

মহাসপ্তমী দুর্গোৎসবের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এ দিনে ভক্তরা দেবী দুর্গার শক্তি, কল্যাণ ও অশুভ শক্তির বিনাশ কামনায় পূজা-অর্চনা করেন। পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেন তাঁরা।

নবপত্রিকা পূজার মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা

মহাসপ্তমীর সকালে শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে নবপত্রিকা স্নান ও তা পূজামণ্ডপে প্রবেশ করানোর মধ্য দিয়ে দিনের প্রধান আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। প্রচলিত ভাষায় নবপত্রিকা ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত।

Advertisement

কলাগাছ, কচুগাছ, হলুদগাছ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ—এই নয়টি উদ্ভিদ একত্র করে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে স্নান করিয়ে নবপত্রিকাকে পূজামণ্ডপে নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

নবপত্রিকা পূজার মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও উদ্ভিদজগতের সঙ্গে দেবী আরাধনার গভীর যোগসূত্র প্রতিফলিত হয়। পূজার বিধান অনুযায়ী, বিভিন্ন পবিত্র জল ও উপকরণ ব্যবহার করে দর্পণে প্রতিফলিত প্রতিমার উদ্দেশ্যে স্নান সম্পন্ন করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট মন্ত্র ও পূজাবিধির মাধ্যমে দেবীর ঐশ্বরিক উপস্থিতি আহ্বানের আচার পালিত হয়, যা প্রাণপ্রতিষ্ঠা নামে পরিচিত।

পূজা, পুষ্পাঞ্জলি ও ভোগ নিবেদন

সপ্তমীবিহিত পূজায় দেবী দুর্গাকে ষোড়শোপচারসহ প্রচলিত শাস্ত্রীয় বিধিতে পূজা করা হয়। মন্ত্রপাঠ, পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ভোগ নিবেদন ও আরতির মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি নিবেদন করেন।

সকালে পূজা শেষে ভক্তরা ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। দেবীর আশীর্বাদ কামনায় পূজামণ্ডপে সমবেত হন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী ভক্ত ও দর্শনার্থী।

দিনভর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হয় মহাসপ্তমী। মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

সন্ধ্যারতিতে মুখর হবে পূজামণ্ডপ

মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ধূপ, প্রদীপ ও অন্যান্য পূজাসামগ্রী দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যারতি। ঘণ্টা, শঙ্খ ও ঢাকের ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপের পরিবেশ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন অনেকে।

শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ, শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেন। মহাসপ্তমীর আয়োজনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

  • সর্বশেষ