শিরোনাম
◈ ডিবি হারুনকে সরানো নিয়ে কাদের-কামালের ফোনালাপে যে কথা হয় (ভিডিও) ◈ বাংলাদেশে আমদানি বাড়ছে না, এলসি খোলা বেড়েছে ৭ শতাংশ: কী বলছে অর্থনীতির চিত্র? ◈ সিলেটে এক বাসা থেকে ৩ মরদেহ উদ্ধার ◈ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব:তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ◈ কেন পালন করা হয় আখেরি চাহার সোম্বা, আমল কী? ◈ যে কারণে বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চমাত্রার সতর্কতা করেছে কানাডার সরকার ◈ ‘আজ যদি এখান থেকে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায় গোয়েন্দা বাহিনী, কিছু করার থাকবে না’ ◈ প্রযোজক সমিতির নির্বাচন স্থগিত, ভোটাধিকার নিয়ে আদালতে লড়াই ◈ বিশ্বকাপের খেলা চালা‌তে আমেরিকায় ঢুকতে দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প, এবার ইতিহাস গড়লেন সেই রেফারি ◈ চ‌ব্বি‌শের জুলাই চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে ঢাবি শিক্ষকদের তালিকা করলো কারা?

প্রকাশিত : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫২ দুপুর
আপডেট : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ড. শামারুহ মির্জার আবেগঘন স্ট্যাটাস

‘আজ যদি এখান থেকে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায় গোয়েন্দা বাহিনী, কিছু করার থাকবে না’

‘হঠাৎ মনে হলো, আমার আব্বু যদি আমাদের খোঁজে?’—এই একটি ভাবনাই সেদিন ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে ড. শামারুহ মির্জাকে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে কারাবন্দি বাবাকে আদালতে দেখতে ছুটে যাওয়ার সেই আবেগঘন স্মৃতি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।

শামারুহ জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের শেষ দিকে মির্জা ফখরুল কারাগারে ছিলেন। তখন তিনি ঢাকায় চলে আসেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও ছিল সীমিত—দুই সপ্তাহ পরপর মাত্র দুই মিনিট ফোনে কথা বলা যেতো, সাক্ষাতের সুযোগও ছিলো খুব কম।

একদিন দুপুরে মা রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন শামারুহ। ফুলগাছ নিয়ে টুকটাক কথা হচ্ছিল। এর মধ্যেই খবর আসে, মির্জা ফখরুলকে আদালতে নেওয়া হবে। আগের সপ্তাহেই মা তার সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন। আদালতে নেওয়ার পর জামিন হবে না, অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে—এমনটাই জানা ছিলো।

হঠাৎ শামারুহর মনে হয়, বাবা হয়তো তাদের খুঁজছেন। আর দেরি না করে একটি শাল নিয়ে একাই গাড়িতে করে ছুটে যান পুরান ঢাকার নিম্ন আদালতের দিকে। চালক আনিসুল ভাইকে দ্রুত গাড়ি চালাতে বলেন। আদালতে পৌঁছে কাউকে না চিনলেও আশপাশের মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করে পাঁচতলায় ওঠেন। সেখানে লিফটও ছিলো না।

আদালতের বারান্দায় তখন প্রচণ্ড ভিড়। শামারুহর মনে ভয়ও জাগে—‘আজ যদি এখান থেকে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায় গোয়েন্দা বাহিনী, কিছু করার থাকবে না।’

এর মধ্যেই সামনে পড়েন নবাব ভাই। কিন্তু আদালতকক্ষে ঢোকা যাচ্ছিল না। ভিড়ের মধ্যে এক আইনজীবী তাকে দেখে বলেন, ‘আসেন আমার সঙ্গে।’ তার সঙ্গে আদালতকক্ষে ঢুকে শামারুহর মনে হয়, দম বন্ধ হয়ে আসছে। মানুষের ভিড়ে জায়গাটি যেন ‘খাঁচার মতো’ লাগছিল। এরপরই বাবাকে দেখতে পান তিনি। মির্জা ফখরুল একটি বেঞ্চে বসেছিলেন। হঠাৎ তিনি শামারুহর হাত শক্ত করে ধরেন।

‘হুহু করে উঠল বুকটা’—সেই মুহূর্তের অনুভূতি এভাবেই বর্ণনা করেছেন তিনি। একজন আইনজীবী তাঁকে বসতে বলেছিলেন। পরে খসরু চাচাও তাঁকে ভিড়ের বাইরে এসে বসতে বলেন। কিন্তু যতক্ষণ সেখানে ছিলেন, বাবার হাত ছাড়েননি শামারুহ। ফিরে আসার সময়ও বাবার হাত আরও শক্ত করে ধরে তাকে বলেছিলেন, ‘ইনশাআল্লাহ এর শেষ হবে শিগগিরই। সব ঠিক হয়ে যাবে।’

মির্জা ফখরুলের কারাবন্দি অবস্থায় তার স্ত্রী ও বড় মেয়ে শামারুহর সাক্ষাতের খবর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিলো। বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ও রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি নিয়ে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন শামারুহ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক স্মৃতি নিয়ে তার বিভিন্ন বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিএনপি-র মহাসচিবের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পেয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১৬ সালে দলের সর্বসম্মতিক্রমে এই পদে নির্বাচিত হন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন বর্ষীয়ান নেতা। 

পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এরই মধ্যে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের নানা আলোচনায় তার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে বুধবার দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

ফলে সবকিছু ঠিক থাকলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হতে পারেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। আর সেই সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে তার মেয়ে শামারুহ মির্জার বাবাকে নিয়ে লেখা এই স্মৃতিচারণও পেয়েছে নতুন মাত্রা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়