শিরোনাম
◈ আমার বক্তব্য থেকে এক ফোটাও সরব না, দেশে আর কোনো স্বপ্ন নেই: ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে মুখোমুখি সালমান মুক্তাদির ◈ ফারুকী-তিশার বিচ্ছেদ গুঞ্জন: ভিত্তিহীন বলছে সংশ্লিষ্টরা ◈ ঘুষের টাকা দিয়ে পোশাক লাগিয়েছি ঘুষ খাব না তো কি বায়তুল মোকাররমের ইমাম হব: এএসআইর বক্তব্যে তোলপাড় ◈ দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল-দোকান খোলা রাখা যাবে ◈ ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ◈ ৬ দিন বন্ধ থাকছে একাধিক ব্যাংকের অনলাইন-এটিএম-কার্ডসহ নানা সেবা ◈ বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিং লাইভ সিসিটিভিতে দেখানোর দাবিতে আইনি নোটিশ ◈ দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, আগের শনিবার খোলা থাকবে অফিস ◈ খাদ্য নিরাপত্তায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৩০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি ◈ নির্মাণকাজে সংকুচিত হচ্ছে চুনতি অভয়ারণ্যের হাতির চলার পথ, বাড়ছে ট্রেন সংঘর্ষের ঝুঁকি

প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২৫ বিকাল
আপডেট : ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:১৬ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আশাবাদ, শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডে ‘চ্যালেঞ্জ’: হুমায়ুন কবির

মনিরুল ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তবে দিল্লিতে বসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলছেন ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন, একই ধরনের পরিস্থিতি ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে তৈরি হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করতেন কি না– এমন প্রশ্ন রেখেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর সমাপনী দিনে বক্তব্য দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে সহায়ক পরিবেশ কীভাবে তৈরি হবে– এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কূটনৈতিক চ্যানেলে দুই দেশের মধ্যে কথাবার্তা ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও চলমান সংলাপ ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সেগুলোর ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সফরে গেলে শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ হবে। তার আগে কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

advertisement

হুমায়ুন কবির বলেন, এক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য বাধা তৈরি করে। ভারত থেকেও কেউ বাংলাদেশে এসে ভারতীয় সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করলে বাংলাদেশ তা হতে দেবে না। একইভাবে ভারতও এমন কর্মকাণ্ড হতে দেবে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকা দরকার, সেটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেগুলো ইতিবাচক। কিছু বৈঠক বাতিল হওয়ার বিষয়টিও তিনি এ ধরনের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নতুন নির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জ বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতে পালিয়ে যাওয়া একজন ব্যক্তি সেখানে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।

তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, কথাবার্তার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো যাবে। বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে এগোবে এবং তিনি আশা করছেন প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে। প্রধানমন্ত্রী কখনো বলেননি যে তিনি ভারত যাবেন না।

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্দিষ্ট কোনো তারিখের কথা বলেননি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়টি এক-দুই দিনের তারিখ দিয়ে নির্ধারণ করার বিষয় নয়। বাংলাদেশের জন্য যা ভালো এবং দেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য যা ভালো, সরকার সেটিই করবে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও কূটনীতির দরজা সবসময় খোলা থাকবে। ইতিবাচক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

নভেম্বরে বাংলাদেশ-ভারতের গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। নবায়নের প্রক্রিয়া কি হবে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির জানান, ঢাকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবে সরকার।

বঙ্গোপসাগরকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তি‌নি বলেন, আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য, জ্বালানি, পানি, সাইবার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সীমান্তপারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ