শিরোনাম
◈ ঘুষের টাকা দিয়ে পোশাক লাগিয়েছি ঘুষ খাব না তো কি বায়তুল মোকাররমের ইমাম হব: এএসআইর বক্তব্যে তোলপাড় ◈ দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল-দোকান খোলা রাখা যাবে ◈ ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ◈ ৬ দিন বন্ধ থাকছে একাধিক ব্যাংকের অনলাইন-এটিএম-কার্ডসহ নানা সেবা ◈ বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিং লাইভ সিসিটিভিতে দেখানোর দাবিতে আইনি নোটিশ ◈ দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, আগের শনিবার খোলা থাকবে অফিস ◈ খাদ্য নিরাপত্তায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৩০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি ◈ নির্মাণকাজে সংকুচিত হচ্ছে চুনতি অভয়ারণ্যের হাতির চলার পথ, বাড়ছে ট্রেন সংঘর্ষের ঝুঁকি ◈ এক কূপে মিলল গ্যাস, এবার যমুনার ওপারেও অনুসন্ধানের ভাবনা ◈ আ‌র্জেন্টিনার জা‌র্সিতে বুধবার ভোর ৫টায় মেসির বিদায়ী ম্যাচ 

প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৯ রাত
আপডেট : ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাহাড়-লেকের সৌন্দর্যে মহামায়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে কায়াকিং

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর কৃত্রিম হৃদ মহায়ায় পর্যটকরা আকৃষ্ট হচ্ছে কায়াকিংয়ে। দিন দিন কায়াকিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সব বয়সী নারী-পুরুষ কায়াকিং করতে পছন্দ করে। মহামায়ায় বেড়াতে আসা ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে কায়াকিং। প্রতিদিন কায়াকিং করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকেরা।

মিরসরাইয়ের মহামায়া ইকোপার্কে রয়েছে পাহাড়, লেক, ঝরনা, সুড়ঙ্গপথ। রয়েছে গাছগাছালি ঘেরা অপরূপ চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। হৃদের নীলাভ জলে কায়াকিং করে মুগ্ধ হচ্ছেন এখানে আসা পর্যটকরা। প্রকৃতিতে যখন শীতের বাতাস বইতে শুরু করেছে ঠিক তখনি প্রতিনিয়ত দেখা মিলছে কায়াকিং করার এমন সৌন্দর্য। চারদিকে সবুজের চাদরে মোড়ানো লেকের স্বচ্ছ অথৈ পানিতে নিজেই পর্যটকরা চালাতে পারবেন নৌকা। এমন অ্যাডভেঞ্চার নিশ্চয়ই কেউ মিস করতে চান না।

জানা গেছে, মিরসরাইয়ে অবস্থিত মহামায়া লেক বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হৃদ। এর আয়তন প্রায় ১১ বর্গ কিলোমিটার। মহামায়া কৃত্রিম লেক ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের রূপে ও মাধুর্যে মুগ্ধ করেছে। উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে এই মহামায়া লেক অবস্থিত। ব্যস্ততম জীবন থেকে কিছুটা সময় প্রকৃতির সঙ্গে কাটানোর সুযোগ এই মহামায়া লেকে।

লেকে কায়াকিং করা পর্যটকরা জানান, পাহাড়ের কোলঘেঁষে আঁকাবাঁকা লেকটি অপরূপ সুন্দর। এখানে যেমন পাওয়া যায় রাশি রাশি সবুজের সমারোহ তেমনি মনোমুগ্ধকর পাহাড়ি পরিবেশ। সেই সঙ্গে লেকের দৃশ্য বেশ চমৎকার।

advertisement

সম্প্রতি কায়াকিং করতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান নেতা-কর্মীদের নিয়ে মহামায়া হৃদে কায়াকিং করতে ছুটে যান। আবিদ বলেন, ‘আসার আগেই জানতাম মিরসরাই অনেক সুন্দর জায়গা। এখানে লেক, ঝরনা, সমুদ্রসৈকত অনেক কিছু রয়েছে। মহামায়াতে কায়াকিং রয়েছে আগে জানতাম না। ঘুরতে গিয়ে কায়াকিং বোট দেখে আর বসে থাকতে পারিনি। ছোট ভাইদের নিয়ে কায়াকিং বোটে অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছি।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হৃদের ধারে সারি সারি রাখা হয়েছে প্রায় অর্ধশত কায়াকিং বোট। কাউন্টার থেকে ভাড়া নিয়ে পর্যটকরা অনেকে হৃদে কায়াকিং করছে। কোনো কায়াকিং নৌকায় দুইজন, কোনোটাতে তিনজন। আবার কোনো কোনো ছোট কায়াকিং নৌকায় একজন ঘুরছেন। শিশুরা কয়েকজন মিলে প্যাডেলচালিত কায়াকিং নৌকায় ঘুরতে দেখা গেছে।

ফেনী থেকে আসা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘আমরা ৪ বন্ধু মিলে ফেনী থেকে এখানে কায়াকিং করতে এসেছি। দুজন করে দুটি কায়াকিং নৌকা নিয়েছি। সময় পেলে কায়াকিং করতে মহামায়া লেকে ছুটে আসি। এটা আমার অনেকটা নেশায় পরিণত হয়েছে। এখানে পরিবেশ ভালো হওয়ায় কায়াকিং করতে খুব ভালো লাগে।’

মহামায়া কায়াকিং পয়েন্টের পরিচালক মোশারফ হোসেন জানান, ‘কাপ্তাইয়ের পরে এখানেই আছে কায়েক নৌকা। আমরা প্রায় ৪ বছর আগে থেকে মহামায়াতে কায়াকিং শুরু করেছি। শুরু থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। মহামায়ার কায়াকগুলো অন্যস্থান থেকে আরও উন্নত ও নিরাপদ। শুক্রবার, শনিবার ও যে কোনো বন্ধের দিন অনেকে কায়াকিং করেন।’

২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে কয়েকবার দরপত্র আহবান করেও এখনো ইজারা হয়নি। তাই সবকিছু বনবিভাগ দেখভাল করছেন। বনবিভাগের মিরসরাই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, ‌‘২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে প্রায় ৫ বার দরপত্র আহবান করা হলেও পর্যাপ্ত মূল্য না পাওয়ায় কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। আগামী ১৫ অক্টোবর পুনরায় দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এখন মহামায়া ইকোপোর্কের সবকিছু আমরা দেখছি। ইজারা না হওয়ায় পর্যন্ত আমাদের দায়িত্বে থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ’হৃদে আমরা পরিবেশবান্ধব কায়াকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। দেশে কাপ্তাই লেকের পর ২য় মহামায়াতে কায়াকিং ব্যবস্থা করা করা হয়েছে। দিন দিন এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কীভাবে যাবেন?

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের যে কেনো স্থান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে বাসে করে সরাসরি নামতে হবে মিরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘী এলাকায়। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৌঁছানো যাবে মহামায়ায়।

কোথায় খাবেন?

মহামায়ায় হান্ডি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। পাশাপাশি ভালো মানের আবাসিক হোটেলও রয়েছে একই নামে। এছাড়া মিরসরাই পৌরসদর ও মিঠাছরায় ভাতের হোটেল রয়েছে।

সূত্র: জাগো নিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ