শিরোনাম
◈ এবার যৌথভাবে কাজ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির ◈ বন উজাড় বাড়ছে, খাদ্য ও জলবায়ু নিরাপত্তা নিয়ে এফএওর বড় সতর্কবার্তা! ◈ এবার যুক্তরাজ্যকে সরাসরি পারমাণবিক হামলার হুমকি দিলো রাশিয়া! ◈ প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছরের মেয়াদসীমা নিয়ে যে মতামত এলো ◈ রাজস্ব আদায় কম, ব্যাংক ঋণে সরকারের নির্ভরতা বাড়ছে ◈ অভিমান করে লাপাত্তা ৩ কিশোরী অতঃপর... ◈ এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সি‌লের পরবর্তী সভাপতি তামিম ইকবাল?  ◈ কারাগারে কয়েক বন্দির জন্য লাক্সারি ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়ায় ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত ◈ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে কী হচ্ছে ◈ ২০২৭ সালের হজে নতুন প্যাকেজ, এক চুক্তিতেই থাকা-খাওয়া-যাতায়াত

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০০ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্রাসেলস সফরে ড. খলিলুর রহমান: বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সোমবার (২০ এপ্রিল) ব্রাসেলস সফর করেছেন। এই সফরে তার সফরসঙ্গী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট কায়া কালাসের উপস্থিতিতে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) সদর দফতরে বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিসিএ) অনুস্বাক্ষরিত হয়, যা বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ড. খলিলুর রহমান এবং মিজ কায়া কালাস পিসিএ-এর অনুস্বাক্ষরকে স্বাগত জানান ও তারা এ চুক্তিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ভবিষ্যতমুখী রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করেন। চুক্তিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন। এ চুক্তি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ-ইইউ পারস্পারিক সহযোগিতা জোরদার করবে বলে তারা মতপ্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

advertisement

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইইউ-এর উচ্চ প্রতিনিধি/ ভাইস-প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের চলমান সংস্কার, পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশে ইইউ এর একটি শক্তিশালী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য মিজ কালাসকে ধন্যবাদ জানান। মিজ্ কালাস একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অভিবাসন, ও রোহিঙ্গা সমস্যাসহ সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাজার প্রবেশাধিকারসহ বাংলাদেশের অন্যান্য অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন এবং ইইউ-এর সঙ্গে আরও শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেন। তিনি দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (আইপিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগ্রহও ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে ইইউ-এর সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য ইইউ-এর অব্যাহত সম্পৃক্ততা কামনা করেন।

পরবর্তীতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র, ইউরোপীয় বিষয়ক এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এ সময়ে উভয় মন্ত্রী বাংলাদেশ-বেলজিয়ামের কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, উদ্ভাবন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরো সুসংহত করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষ এবছরের শেষে ব্রাসেলসে ৩য় বাংলাদেশ- বেলজিয়াম দ্বিপাক্ষিক কন্সাল্টেশনস আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রহমান লজিস্টিকস, বন্দর ব্যবস্থাপনা, ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনাসহ যেসকল ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের দক্ষতা রয়েছে সেসকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে বেলজিয়ামের আরও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান। উভয় পক্ষ অভিবাসন, ভিসা ও কনস্যুলার বিষয় এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা উত্তোরত্তর বৃদ্ধির জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করবে বলে আশা ব্যক্ত করে।

এছাড়াও, একইদিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের স্টার্টআপ, গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক কমিশনার একাতেরিনা জাহারিয়েভার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি , উদ্ভাবন ও স্টার্ট-আপ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় Horizon ইউরোপ কর্মসূচির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, ও টেকসই উন্নয়নসহ সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনুরোধ জানান।

এক দিনের এ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মিজ নাহিদা সোবহান এবং বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইইউ মিশনের প্রধান খন্দকার মাসুদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ