শিরোনাম
◈ সৌদি আরবের মক্কা-জেদ্দাসহ ৪ শহরে হামলার আশঙ্কা, জরুরি সতর্কতা জারি ◈ সাঈদীর মামলার বাদীকে গোপনে 'গার্ড অব অনার', রাতে কবর খুঁড়ে দাফন করলেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন ◈ সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট, চলছে মেরামতের কাজ ◈ তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ◈ ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসায় আরো ৫ জেলায় হচ্ছে নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্র ◈ ঢাকার বাজারের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে বিপজ্জনক ভারী ধাতু, পনিরে সিসা নিরাপদ মাত্রার ৩৯ গুণ ◈ ইং‌লিশ লি‌গে এভারটনকে হারা‌লো আর্সেনাল  ◈ দেশে স্বর্ণের দামে আবারও বড় পতন, ভরিতে কমল ৩ হাজার ৩২৪ টাকা ◈ সাত বছরে ব্যাটারিচালিত রিকশার ৪শ'র বেশি চালককে হত্যা ◈ আফগা‌নিস্তান‌কে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ বিজয়ী কর‌তে চান কোচ পাইবাস

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ দুপুর
আপডেট : ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:১৬ দুপুর

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসায় আরো ৫ জেলায় হচ্ছে নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্র

নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্রে থাকা সিটি স্ক্যান মেশিন | ছবি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ক্যান্সার, হৃদরোগ, থাইরয়েড, কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে দেশের আরো পাঁচ জেলায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আধুনিক পরমাণু প্রযুক্তিনির্ভর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। এ-সংক্রান্ত একটি উন্নয়ন প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা, মিটফোর্ড, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ফরিদপুরসহ দেশের ২২টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। তবে দেশে এসব রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার।

প্রতি বছর নতুন করে আক্রান্ত হয় ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ এবং এ রোগে মারা যায় প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ জন। একই সঙ্গে কিডনি রোগের প্রকোপও বাড়ছে। দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ। লিভার, থাইরয়েডসহ অন্যান্য জটিল রোগের ক্ষেত্রেও বাড়ছে চিকিৎসাসেবার চাহিদা। এমন প্রেক্ষাপটে সরকার আরো পাঁচটি নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর সরকারি মেডিকেল কলেজ ও কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসব কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। পুরো অর্থায়ন হবে সরকারি কোষাগার থেকে। রাজধানীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের টেকসই নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেবা নিশ্চিত করাই প্রকল্পটির লক্ষ্য। একনেকে অনুমোদন পেলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

Advertisement

তবে বিভিন্ন জেলার মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে এসব নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও ভূমি উন্নয়ন, অফিস ভবন নির্মাণ, যানবাহন ক্রয়সহ কয়েকটি খাতের প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ভূমি উন্নয়নে ৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা, অফিস ভবন নির্মাণে প্রায় ২২ কোটি, প্রকল্প অফিসের জন্য ৪ কোটি ও মনিহারি সামগ্রী কেনায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব খাতের ব্যয় বেশি বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন এবং তা কমিয়ে আনার সুপারিশ করেছে।

এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেবা চালু থাকলেও এখনো সব জেলায় এ সেবা নেই। তাই সেবাটি আরো বিস্তৃত করতে নতুন করে পাঁচ জেলায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে এবং কাজ শেষ হলে কেন্দ্রগুলো চিকিৎসাপ্রার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে।’

দেশের ২২টি সরকারি হাসপাতালে নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্র থাকলেও এর অনেকগুলোতেই পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। কুষ্টিয়া, যশোর, বরিশালসহ কয়েকটি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের সংকটে রোগীদের সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিভিন্ন পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতেও কয়েক দিন সময় লাগছে। এ অবস্থায় শুধু সেবা সম্প্রসারণ নয়, বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর কাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা দেয়ার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে শুধু কেন্দ্র স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সক্ষমতা ও প্রশাসনিক স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে। শুধু নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ নয়, দেশের সব হাসপাতাল ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক স্বায়ত্তশাসন দেয়া উচিত।

প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা, কেনাকাটা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেভাবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়, চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও তেমন সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। সবকিছুর জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। স্বায়ত্তশাসন থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং সেবার মানও উন্নত হবে।’

  • সর্বশেষ