শিরোনাম
◈ ঘুষের টাকা দিয়ে পোশাক লাগিয়েছি ঘুষ খাব না তো কি বায়তুল মোকাররমের ইমাম হব: এএসআইর বক্তব্যে তোলপাড় ◈ দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল-দোকান খোলা রাখা যাবে ◈ ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ◈ ৬ দিন বন্ধ থাকছে একাধিক ব্যাংকের অনলাইন-এটিএম-কার্ডসহ নানা সেবা ◈ বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিং লাইভ সিসিটিভিতে দেখানোর দাবিতে আইনি নোটিশ ◈ দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, আগের শনিবার খোলা থাকবে অফিস ◈ খাদ্য নিরাপত্তায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৩০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি ◈ নির্মাণকাজে সংকুচিত হচ্ছে চুনতি অভয়ারণ্যের হাতির চলার পথ, বাড়ছে ট্রেন সংঘর্ষের ঝুঁকি ◈ এক কূপে মিলল গ্যাস, এবার যমুনার ওপারেও অনুসন্ধানের ভাবনা ◈ আ‌র্জেন্টিনার জা‌র্সিতে বুধবার ভোর ৫টায় মেসির বিদায়ী ম্যাচ 

প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০ দুপুর
আপডেট : ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৭ রাত

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন খাবার অপচয় হয় ১০০ কোটির বেশি

খাদ্যবর্জ্যে বাড়ছে জলবায়ু ঝুঁকি, বিশ্বে গ্রিনহাউজ গ্যাসের ১০%ই আসে পচা খাবার থেকে

জাতিসংঘের প্রতিবেদন: পচা খাদ্যবর্জ্য থেকে বিশ্বে যে পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস ছড়ায়, তা মোট বৈশ্বিক নিঃসরণের ১০ শতাংশ। জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনইপি) সম্প্রতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ পরিমাণ নিঃসরণ বৈশ্বিক উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বলে জানায় সংস্থাটি।

বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয় গ্রিনহাউজ গ্যাস বা কার্বন নিঃসরণ। কারণ জলবায়ু সংকট পরিবেশ ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বন্যা, খরা ও চরম আবহাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাড়ছে খাদ্যপণের দাম।

খাদ্যবর্জ্যকে জলবায়ু সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে ইউএনইপি। তবে এ সমস্যা মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কোথাও বর্জ্য সংগ্রহকারীদের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হচ্ছে। আবার কোথাও জৈব বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা একধরনের মাছি।

খাদ্যবর্জ্যের মধ্যে রয়েছে অপচয় করা খাবার থেকে শুরু করে নষ্ট হয়ে যাওয়া কৃষিপণ্য। ফসল তোলার পর বাজারে বা দোকানে পৌঁছার আগেই নষ্ট হওয়া খাবারও খাদ্যবর্জ্যের অংশ।

advertisement

তবে জলবায়ুর জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে পচে যাওয়া খাবার। এসব খাবার যখন ময়লার ভাগাড়ে জমা হয়, তখন সেখানে অক্সিজেনের অভাবে জৈব পদার্থ পচতে থাকে। এ সময় অণুজীবের ক্রিয়ায় তৈরি হয় মিথেন গ্যাস।

কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় মিথেন অনেক বেশি শক্তিশালী গ্রিনহাউজ গ্যাস। ইউএনইপির তথ্যানুযায়ী, ২০ বছরের হিসাবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় মিথেন প্রায় ৮৬ গুণ তাপ আটকে রাখতে পারে। বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী মিথেন। ফলে পচা খাদ্যবর্জ্য বিশ্বজুড়ে মিথেন নিঃসরণের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।

বিশ্বে খাবার অপচয়ের পরিমাণও বিশাল। ইউএনইপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন বিশ্বে ১০০ কোটির বেশি খাবার খাওয়া হয় না। এর ৬০ শতাংশই আসে সাধারণ পরিবারের থেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, খাবার নষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা উৎপাদনে ব্যবহৃত সম্পদও নষ্ট হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানায়, বিশ্বে প্রায় ১৪০ কোটি হেক্টর কৃষিজমিতে এমন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত খাওয়া হয় না। এটি বিশ্বের মোট কৃষিজমির প্রায় ২৮ শতাংশ।

খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পানিও এভাবে অপচয় হয়। এছাড়া কৃষিজমি বাড়াতে অনেক সময় বন উজাড় করা হয়। ফলে যে খাবার শেষ পর্যন্ত মানুষ খায় না, তা উৎপাদনের জন্যও গাছ কাটতে হচ্ছে। এতে বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের পরিমাণ কমে যায়। অর্থাৎ খাবার অপচয়ের প্রভাব শুধু নষ্ট হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে পানি, জমি ও বনসম্পদের অপচয়ও জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে বাড়ছে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, মিথেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় বায়ুমণ্ডলে মিথেনের স্থায়িত্ব কম। ফলে এখন মিথেন নিঃসরণ কমাতে পারলে কয়েক দশকের মধ্যেই জলবায়ুতে এর সুফল পাওয়া সম্ভব।

ইউএনইপির কর্মকর্তা মার্টিন ক্রাউস বলেন, ‘বিশ্ব এখন দ্রুত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমানোর বাস্তবসম্মত উপায় খুঁজছে। তাই খাদ্যবর্জ্য কমানো অন্যতম দ্রুত ও কম ব্যয়ের সমাধান হতে পারে।’

তবে খাবারের অপচয় কমানোর ক্ষেত্রে এখনো বড় অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে এফএও বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও ২০১৫ সালের পর থেকে এমন অপচয় কমানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু বৈশ্বিক খাবার অপচয় অর্ধেকে নামিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা থেকেও বিশ্ব অনেক দূরে রয়েছে।

খাদ্যবর্জ্য থেকে মিথেন নিঃসরণ কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। যেমন জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার হচ্ছে ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’। অর্থাৎ এক ধরনের মাছি দিয়ে খাবারের উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য জৈব বর্জ্যকে কাজে লাগানোর কথা বলা। বিশ্বের বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এ মাছি পালন করছে।

বিশ্বজুড়ে খাবার অপচয়ের পরিমাণ কমানো গেলে একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে মিথেন নিঃসরণও কমানো সম্ভব। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানোর পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত জমি ও পানির অপচয়ও কমবে। তাই খাবারের অপচয় রোধ এখন শুধু খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়। জলবায়ু সংকট মোকাবেলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠছে।

  • সর্বশেষ