মনিরুল ইসলাম : ‘আমরা বিচ্ছেদ হচ্ছি না! গত দুদিনের বাস্তবতা আমাদের ভালোবাসা আরও মজবুত করেছে’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং অভিনেত্রী-গায়িকা শেহতাজ মনিরা হাশেমকে ঘিরে। পোস্টটি দেখে অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন করে কৌতূহল—তাহলে কি তাদের বিচ্ছেদের খবরটি গুঞ্জন ছিল?
তবে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বলছে, বিষয়টি এমন নয়। বরং গত ৪ অক্টোবর রাতে প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেম নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্টে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
প্রীতম ও শেহতাজের বক্তব্য ছিল প্রায় অভিন্ন। তারা জানান, প্রায় ১০ বছরের সম্পর্কের পর পারস্পরিক বোঝাপড়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যের কারণে আলাদা পথে চলাই দুজনের জন্য ভালো হবে বলে তারা উপলব্ধি করেছেন। সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি; দীর্ঘ চিন্তাভাবনা, নিজেদের মধ্যে আলোচনা এবং দুই পরিবারের সমর্থন ও সম্মতির পর তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বর্তমানে তারা বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
দুজনই তাদের একসঙ্গে কাটানো সময়, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি একে অপরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা থাকার কথাও জানিয়েছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের কাছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানসিক অবস্থার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ করেছেন।
কীভাবে শুরু হয়েছিল তাদের সম্পর্ক?
প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেমের পরিচয় হয় প্রীতমের ‘জাদুকর’ গানের মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার সময়। ২০১৭ সালে সেই কাজের সূত্র ধরে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তী সময়ে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের প্রেমের পর ২০২২ সালের অক্টোবরে সিলেটের শ্রীমঙ্গলের একটি হোটেলে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয়।
বিয়ের পরও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দেখা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তাদের একসঙ্গে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
তাহলে ‘বিচ্ছেদ হচ্ছি না’ পোস্টটি কী?
বর্তমানে পাওয়া নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে প্রীতম বা শেহতাজের পক্ষ থেকে ‘আমরা বিচ্ছেদ হচ্ছি না’—এমন কোনো নতুন, যাচাই করা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং ৪ অক্টোবরের প্রকাশ্য বিবৃতিতে তারা স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন যে তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যটি পুরোনো, বিভ্রান্তিকর কিংবা ভুয়া পোস্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংবাদগুলোর সঙ্গে এর সরাসরি বিরোধ রয়েছে।
এদিকে তাদের বিচ্ছেদের প্রকৃত কারণ হিসেবে দুজনই বিস্তারিত কোনো ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ করেননি। তারা শুধু পারস্পরিক বোঝাপড়ার পার্থক্যকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ব্যক্তিগত বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন।
অতএব, ‘প্রীতম-শেহতাজ বিচ্ছেদ হচ্ছেন না, বরং ভালোবাসা আরও মজবুত হয়েছে’—এই দাবিকে এই মুহূর্তে সত্য বলে প্রচার করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সর্বশেষ যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, দুজনের দাম্পত্য সম্পর্কের অবসানের সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।