শিরোনাম
◈ এআই ও স্বয়ংক্রিয় বট ব্যবহার করে গান বানিয়ে ৮০ লাখ ডলারের স্ট্রিমিং জালিয়াতি! ◈ বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত: রণধীর জয়সওয়াল ◈ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ ১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশের চুক্তি সই ◈ ফ্রান্সের শিক্ষার্থী বিক্ষোভে স্পষ্ট ঋণ ও বাজেট সংকট, যা ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো ইউরোপে ◈ ব্যাংকক সম্মেলনে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি তুলে ধরবে সরকার ◈ চীন-ভারতের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেশি স্থিতিশীল, সামনে বড় সুযোগ ◈ শ্রমিকদের বিরোধিতার মধ্যেই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ১৫ বছরের এনসিটি ইজারা দিচ্ছে বাংলাদেশ ◈ ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নগ্ন সোনালি ট্রাম্পের ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ ◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ

প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪২ রাত
আপডেট : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

ব্যাংকক সম্মেলনে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি তুলে ধরবে সরকার

মনিরুল ইসলাম : থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা—২০২৬ Annual Meetings of the IMF and World Bank Group। বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার (Queen Sirikit National Convention Center (QSNCC) -এ।

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যাংকিং, রাজস্বসহ আর্থিক খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে নিজস্ব সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। এসব সংস্কার বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহযোগিতা চাওয়া হবে। তবে এসব সংস্কার কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপিয়ে দেওয়া নয়; দেশের সমস্যাগুলো নিজেরাই চিহ্নিত করে নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। 

সম্মেলনে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা।

Advertisement

আগামী ১২ অক্টোবর ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন। এতে অর্থ উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।

তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। প্রধান তিনটি সূচক ছিল-ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রাজস্ব আয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসা এবং অধিকাংশ ব্যাংকে তারল্য সংকট।

তিনি বলেন, “এই তিনটি সংকট আমরা আমাদের ইশতেহারে উল্লেখ করেছি। অতীতে এটি আইএমএফের প্রোগ্রামের মধ্যে ছিল এবং তারা কতগুলো শর্তযুক্ত বিষয়ের মধ্যে রেখেছিল। এখন আমাদের যে অভ্যন্তরীণ কৌশলগুলো, সেগুলো নিয়েই আমরা অগ্রসর হচ্ছি।” 

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রথম লক্ষ্য। পাঁচটি ব্যাংক ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা একসময় নিজেদের অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। এখন তাদের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এবং গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন। এতে ব্যাংকিং খাতে আস্থার পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে।

ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের সময়ে খেলাপি ঋণ ১১ শতাংশ দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ছিল ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। কয়েকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। আবার এনবিএলের মতো অনেক বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও বা এডিআরও ছিল অনেক বেশি।

ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি কমাতে সরকার অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিতে সমাধান বের করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে রাজনৈতিকভাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন সেই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যাংক পরিচালনায় সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ায় দেশের অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনে ফেরাতে অর্থ ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ে ৭ শতাংশ প্রণোদনামূলক সুদে একটি উদ্ভাবনী পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্সিং স্কিম নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিতুমীর।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ধ কলকারখানা চালুর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চল, নারী উদ্যোক্তা ও অবহেলিত অঞ্চলে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর আশা করছে সরকার।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এখন স্থিতিশীল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসন থাকা প্রয়োজন। আশা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরে ধীরে সুদের হার কমাবে।

বন্ধ কলকারখানা চালু এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকেও সচল করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে জিডিপি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিতুমীর বলেন, “আগের আইএমএফ প্রোগ্রামগুলো সরকার বাধ্য হয়ে গ্রহণ করেছিল। আর আমরা দায়িত্বভার গ্রহণ করার আগেই ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা, বন্ধ কলকারখানা চালু ও ঋণ প্রবাহের সংস্কারগুলোকে চিহ্নিত করেছি। এগুলো সবই অভ্যন্তরীণ বা স্বীয় চালিত সংস্কার প্রোগ্রাম।”

রাজস্ব বাড়াতে অর্থনীতির মডেল বদলাচ্ছে উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা জানান, রাজস্ব খাতের দুর্বলতা কাটাতেও সংস্কার চলছে। তিনি বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থনীতিতে কর-জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আয় তলানিতে ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরুতে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ শতাংশ।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনটি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর ফলে ৩০ জুনের মধ্যে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রচলিত মডেলেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ