দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর দুই দিনের মাথায় আবারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে সোনার দাম সমন্বয় করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম সোনার অলংকারের দাম ভ্যাটসহ ১৮ হাজার ৯৩৫ টাকা। সে হিসাবে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৭৮৬ টাকা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন।
বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের অলংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫ টাকা। প্রতি ভরি দাম পড়বে ২ লাখ ১০ হাজার ৮৭১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৫ হাজার ৫৩৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ১২৮ টাকা।
এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণের অলংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৯০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৩২ টাকা।
দুই দিনের ব্যবধানে বাড়লো স্বর্ণের দাম
এর আগে গত শনিবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। ওই দিন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮১ টাকা কমানো হয়। এতে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে ওই দাম কার্যকর হয়। তবে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।
নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম আগের তুলনায় ৩ হাজার ১৯৪ টাকা বেড়েছে।
রুপার দামও নির্ধারণ
সোনার পাশাপাশি রুপার অলংকারের দামও নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ভ্যাটসহ ৩০০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ২৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপার দাম ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অলংকার বিক্রিতে যেসব নির্দেশনা
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
এ ছাড়া মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে পুরোনো স্বর্ণের অলংকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। তবে এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এ দাম কার্যকর থাকবে।