জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তুরস্কের জেন্ডারমেরি বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল।
রোববার বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে পাঁচ দিনব্যাপী ‘পাবলিক অর্ডার ইনসিডেন্ট রেসপন্স অ্যান্ড রায়ট কন্ট্রোল ট্রেনিং’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ প্রশিক্ষণ।
প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন ১১৮ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন বিসিএস কর্মকর্তা, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ১০ জন সদস্য এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ৯৭ জন সদস্য।
তুরস্কের জেন্ডারমেরি বাহিনীর পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্ক দূতাবাসের নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক কাউন্সেলর জেন্ডারমেরি কর্নেল বোরো তাসদেলেন। এ ছাড়া তুরস্কের জেন্ডারমেরি জেনারেল কমান্ডের তিনজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক ও একজন দোভাষী এতে যুক্ত রয়েছেন।
প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে জেন্ডারমেরি ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ওগুজহান কারাতাস প্রশিক্ষণের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পাঠ্যসূচি, মডিউল ও পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার এ প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক পাঠ, ব্যবহারিক অনুশীলন, বাস্তব পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম দিনে একাডেমির বীর বিক্রম এলাহী বক্স অডিটোরিয়ামে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্যারেড গ্রাউন্ডে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন আত্মরক্ষামূলক কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয় এবং সেগুলোর বাস্তব প্রদর্শনী করা হয়।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাহিনীর সদস্যদের বিদ্যমান পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত আধুনিক কৌশল ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটলে সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও সুদৃঢ় হবে।
বিশেষ করে জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, আকস্মিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে এ প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়বে।