ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই আইন পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, “দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভালুকায় ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ তৈরি হবে বলে আশা করছি। স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ৮ হাজার ৬০০ সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।”
সোলার প্যানেলের মান নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “দেশের বাজারে সৌরবিদ্যুৎ পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকার সচেতন ও সক্রিয়। জনস্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারি থাকবে।”
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” মন্ত্রীর ভাষ্য, একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, আর যেকোনো পরিস্থিতিতে তা স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলায় আরও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “চাহিদা বিবেচনায় নতুন টার্মিনাল বসানো হবে, যা গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে।” তিনি আরও বলেন, “উদ্ভূত সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নাগরিক জীবন স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।”