শিরোনাম
◈ এইচএসসিতে ফেল ৫ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী, এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা মাসখানেকের মধ্যে ◈ এইচএসসি-সমমানের ফলে বড় ধস, কোন বোর্ডে পাশের হার কত? ◈ এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ১৩৯ প্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষার্থী পাশ ◈ আলিমে পরীক্ষায় পাশের হার ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ ◈ নতুন বেতনকাঠামো: কাল বর্ধিত বেতন ও ৩ মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, বাদ পড়বেন অনেকে ◈ এবার এইচএসসিতে ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাশ করেনি ◈ ইসলামের দৃষ্টিতে হ্যালোইন উৎসব: কেন মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ? ◈ ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনালেই শেষ বাংলাদেশের স্বপ্ন ◈ অবশেষে মামলা করলেন তাহসিফ সাউরিকের বাবা, আসামি অজ্ঞাতনামারা ◈ এইচএসসির ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৮ দুপুর
আপডেট : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৮ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

গ্যাসের মজুত ফুরোচ্ছে, ১০ বছরে উৎপাদন কমেছে ৩৯ শতাংশ

‌ডেস্ক রি‌পোর্ট:  দেশের উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুতের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭৪ শতাংশই উত্তোলন করা হয়েছে। গত এক দশকে দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। নতুন কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ আট বছর গ্যাস পাওয়া যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

হাইড্রোকার্বন ইউনিটের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করত। ২০১৫ সালের মে মাসে উৎপাদন সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছিল। বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাস উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ এক দশকে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ---- তথ‌্যসূত্র, নিউএইজ

দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র ও কূপগুলোর মজুত কমে যাওয়াই উৎপাদন হ্রাসের প্রধান কারণ। দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানায় এক দশক আগে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হতো। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ক্ষেত্রটি থেকে দৈনিক গড় উৎপাদন কমে প্রায় ৭৩২ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে।

গত সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছিলেন, দেশে প্রতিবছর গ্যাসের উৎপাদন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করে কমছে। এর আগে এপ্রিলে সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের আনুমানিক মজুত ২৯ দশমিক ৭৪ টিসিএফ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর মধ্যে ২২ দশমিক ১১ টিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট রয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ টিসিএফ, যা মোট মজুতের প্রায় ২৬ শতাংশ।

Advertisement

অন্যদিকে দেশে গ্যাসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় আবাসিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ—সব খাতেই সরবরাহের সংকট তীব্র হচ্ছে। গত জুলাইয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগের অনুমোদন স্থগিত করে সরকার। ফলে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে ১ হাজার ৮৫৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আবেদন ঝুলে রয়েছে।

দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্যাসের তীব্র সংকটে গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ও এসব কেন্দ্রের অর্ধেক সক্ষমতা কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে। আবাসিক খাতে ২০১৫ সাল থেকে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। পাইপলাইনে চাপ কম থাকায় সিএনজিচালিত যানবাহনগুলোকেও প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অন্যদিকে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থায় যেতে কিংবা বিদ্যমান যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করতে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হচ্ছে।

চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান মেটাতে ২০১৮ সালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু করে তৎকালীন সরকার। সময়ের সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের ৩৫ শতাংশের বেশি আসছে আমদানি করা এলএনজি থেকে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম তামিমের মতে, প্রচলিত সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়নি। অথচ উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নানা সুযোগ এখনো রয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট এলএনজির দাম বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার এশিয়ার এলএনজির বেঞ্চমার্ক মূল্য জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ৩২ ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর এটি সর্বোচ্চ দাম।

জ্বালানি অর্থনীতিবিদ শফিকুল আলম জানিয়েছেন, দেশে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রতি ঘনমিটারের খরচ প্রায় ১২ থেকে ১৫ টাকা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ৩০ ডলার হলে আমদানি করা গ্যাসের প্রতি ঘনমিটারের খরচ পড়ে প্রায় ১২৭ টাকা। অর্থাৎ দেশীয় গ্যাসের তুলনায় আমদানি করা গ্যাসের ব্যয় কয়েক গুণ বেশি।

চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ভর্তুকি বাবদ সরকার ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয় বরাদ্দের ছয় গুণেরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই এলএনজি ভর্তুকিতে সরকার ব্যয় করেছে ১০ হাজার কোটি টাকা।

গত ২৫ অক্টোবর নিউ এজকে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

তবে নতুন গ্যাসের বাণিজ্যিক মজুত শনাক্ত করা এবং তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সাত থেকে ১০ বছর সময় লাগে। ফলে নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম থেকে তাৎক্ষণিক সুফল পাওয়ার সুযোগ নেই।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক উপস্থাপনায় জ্বালানি বিভাগ ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ৫ হাজার ৮১৯ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৮ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরে। এ লক্ষ্যে এলএনজি আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে মাতারবাড়ীতে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল, কুতুবজোমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার ভাসমান টার্মিনাল, ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ফেনী-বাখরাবাদ পাইপলাইন নির্মাণ এবং ১৫০টি নতুন কূপ খনন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরও তিনটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার জন্য পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব এবং আরও ১৫০টি কূপ খননের কথা রয়েছে।

তবে সরকারের এসব উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান উদ্যোগগুলো গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণের বদলে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরà