শিরোনাম
◈ আজও উত্তপ্ত মিরপুর, পুলিশ-শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ◈ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ◈ বাজারে কমছে সবজি, ডিম ও মুরগির দাম ◈ তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে জাপানের কঠিন শর্ত মেনে নিল বাংলাদেশ ◈ মাটির নিচেই গোটা গ্রাম, ২০০ বছরের পুরোনো বাড়িতে আজও বসবাস করছেন হাজারো মানুষ! ◈ ৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে কি না, জানতে চাইল পুলিশ সদর দপ্তর ◈ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তুরস্কের বিশেষজ্ঞ দল ◈ রাজনৈতিক দলগুলোর এত টাকা আসে কোথা থেকে, দল চালাতে কত টাকা লাগে: টিআইবির গবেষণা ◈ কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি না হওয়ায় আবুধাবিতে ফেরত যাচ্ছিল ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার স্বর্ণের ডিম, আটক ৬টি ◈ ওয়ারীতে বাসায় কুশ চাষ ও মাদক সরবরাহ, যুক্তরাষ্ট্রফেরত ২২ বছর বয়সী তৌসিফ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ দুপুর
আপডেট : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাজারে কমছে সবজি, ডিম ও মুরগির দাম

রাজধানীর বাজারে নতুন শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও। তবে মাছের বাজারে স্বস্তি নেই। বিশেষ করে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের সরবরাহ শুরু হলেও দাম চড়া। যে কারণে জাতীয় এ মাছ এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

গতকাল রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার, সেগুনবাগিচা ও হাতিরপুল কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা জাকিয়া সুলতানা আমার দেশকে বলেন, গত এক থেকে দেড় মাসের তুলনায় বর্তমানে অনেক সবজির দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। কোনো কোনো সবজির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। সরবরাহ আরো বাড়লে দাম আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

কারওয়ান বাজারে গতকাল রোববার শিম ৮০-৯০, বেগুন ৬০-৮০, ফুলকপি ৩০-৪০, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০–৮০ টাকা, লাউ ২০–৫০ টাকা, লতি ৬০–৮০ টাকা, কচুর মুখি ৪০–৫০ টাকা, আলু ২০–২৫ টাকা এবং পেঁপে ২০–৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। লালশাকের আঁটি ১০ টাকায় পাওয়া গেছে। তবে টমেটোর দাম বেড়ে ১২০–১৪০ টাকা হয়েছে। বাজার ও এলাকাভেদে সবজির দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

Advertisement

কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের সবজি বিক্রেতা আব্দুল আজিজ বলেন, পাইকারি বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ছে। ফলে দাম কমেছে। সরবরাহ আরও বাড়লে ক্রেতারা কম দামে সবজি কিনতে পারবেন।

ডিমের বাজারেও কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গতকাল রোববার বিভিন্ন বাজারে ফার্মের ডিমের ডজন ১২০–১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা পলাশ বলেন, দেড় মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম ২০–৩০ টাকা কমেছে। সবজির দাম কমায় মানুষের খাদ্যব্যয়ের চাপ কিছুটা কমেছে, যার প্রভাব ডিমের চাহিদা ও দামে পড়েছে। তবে ফুটপাতের দোকানে সিদ্ধ ডিম এখনো বাড়তি দামে প্রতিটি ২০–২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দামের প্রভাব ব্রয়লার মুরগির দামেও পড়েছে। গতকাল কারওয়ানবাজার ও নয়াবাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০–১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০–৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে মাছের বাজারে বাড়তি দামের চাপ রয়েছে। কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন ধরনের মাছ কেজিতে ৩০–৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দামও অনেক বেশি। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। এরপর নদী ও সাগরে মাছ ধরতে ফিরেছেন জেলেরা। তবে বাজারে সরবরাহ এখনো চাহিদার তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ৮০০–৯০০ গ্রামের ইলিশ কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০০–৬০০ গ্রামের ইলিশের দাম ১ হাজার ৩০০–১ হাজার ৬০০ টাকা। ৩০০–৪০০ গ্রামের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ৪০০–৬০০ টাকা কেজিতে।

নয়াবাজারের মাছ বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০–২ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এখন পাইকারি দাম কিছুটা কমায় খুচরা বাজারেও দাম কমেছে। আল্লার দান ফিশের স্বত্বাধিকারী শুক্কুর আলী জানান, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৭০০–১ হাজার ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এ দাম এখনো নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য অনেক বেশি। নয়াবাজারে কেনাকাটা করতে আসা পোশাক কারখানায় কাটিং মাস্টারের চাকরী করেন সাব্বির হোসেন। তিনি আমার দেশকে বলেন, কত দিন আগে যে ইলিশ কিনেছিলাম স্মরণে নেই; দাম কমার খবর শোনে আজ বাজারে ইলিশ কিনতে এসেও দেখি দাম অনেক বেশি; ফলে ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি ছোট ইলিশ কিনলাম দাম ৬০০ টাকায় । দাম অনেক বেশি; আমার ছোট মেয়ে ইলিশ খেতে চেয়েছে তাই চড়া দামে ইলিশ কিনলাম।

এদিকে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত আট মাসের জন্য ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের জাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সবজি ও ডিমের দাম কমলেও চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ক্রেতারা। কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী এম এম আকাশ বলেন, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মুদি পণ্য কিনতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে মায়ের দোয়া স্টোরের ইমাম উদ্দিন বাবলু আমার দেশকে বলেন, তাদের ব্যবসায় ব্যাপক মন্দা যাচ্ছে; আগের মতো বিক্রি নেই। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, বাজারে যথাযথ তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় দাম কমেছে, তবে উৎপাদনস্থল ও রাজধানীর বাজারের দামের ব্যবধান অনেক বেশি। কুড়িগ্রামে যে লাউ ২–৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, রাজধানীতে তা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ব্যবধান কমাতে বাজার তদারকি ও সরবরাহব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

সূত্র : আমার দেশ 

  • সর্বশেষ