শিরোনাম
◈ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ◈ বাজারে কমছে সবজি, ডিম ও মুরগির দাম ◈ তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে জাপানের কঠিন শর্ত মেনে নিল বাংলাদেশ ◈ মাটির নিচেই গোটা গ্রাম, ২০০ বছরের পুরোনো বাড়িতে আজও বসবাস করছেন হাজারো মানুষ! ◈ ৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে কি না, জানতে চাইল পুলিশ সদর দপ্তর ◈ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তুরস্কের বিশেষজ্ঞ দল ◈ রাজনৈতিক দলগুলোর এত টাকা আসে কোথা থেকে, দল চালাতে কত টাকা লাগে: টিআইবির গবেষণা ◈ কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি না হওয়ায় আবুধাবিতে ফেরত যাচ্ছিল ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার স্বর্ণের ডিম, আটক ৬টি ◈ ওয়ারীতে বাসায় কুশ চাষ ও মাদক সরবরাহ, যুক্তরাষ্ট্রফেরত ২২ বছর বয়সী তৌসিফ গ্রেপ্তার ◈ বারে মদ্যপান শেষে প্রেমিকার সঙ্গে বিরোধের পর হেরোইন খুঁজতে টঙ্গীর মাঠে যান তাহসিফ: রিমান্ডে দীপের বয়ানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫১ সকাল
আপডেট : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পুরোনো সোনা বিক্রি ও বদলে কত টাকা কাটবে, জানাল বাজুস

দেশের স্বর্ণ শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি অস্বচ্ছতা দূর করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। পুরোনো সোনার গহনা বদল কিংবা বিক্রির ক্ষেত্রে এতদিন যে যার মতো নিয়ম চালাতো, এখন থেকে সেই জায়গায় বসেছে একটি অভিন্ন, লিখিত ও বাধ্যতামূলক নীতিমালা।

চলুন সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক, নতুন এই নিয়মে আসলে কী বদলাচ্ছে, কেন বদলাচ্ছে এবং এর প্রভাব কতদূর গড়াতে পারে। এই তথ্যটি গ্রাহকদের জানা থাকা প্রয়োজন, যাতে দোকানে গিয়ে চূড়ান্ত বিল দেখে তারা বিভ্রান্ত না হন।

কবে থেকে কার্যকর হলো এই নতুন পলিসি

বাজুসের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে ‘অলংকার ক্রয়-বিক্রয় পলিসি- ২০২৬’। অর্থাৎ এখন থেকে বাজুসের অন্তর্ভুক্ত যে কোনো জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে গেলে গ্রাহককে একই নিয়মের মুখোমুখি হতে হবে- প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন ভিন্ন শর্তের সুযোগ আর থাকছে না।

Advertisement

নতুন নিয়ম আনার পেছনের কারণ কী

বাজুসের ভাষ্যমতে, দেশের জুয়েলারি শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং কেনাবেচার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। এতদিন পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি বা বদলের সময় কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড ছিল না। এক দোকানে হয়তো ১০% কেটে রাখা হতো, আবার পাশের দোকানেই সেই হার ছিল ২০% বা তারও বেশি। ফলে একজন সাধারণ গ্রাহকের পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে পড়তো, তিনি ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কি না। বিশেষ করে যারা পারিবারিক প্রয়োজনে বা জরুরি অবস্থায় গহনা বিক্রি করতে বাধ্য হন, তাদের জন্য এই অনিশ্চয়তা ছিল আরও বেশি ভোগান্তির কারণ।

এছাড়া সোনার বিশুদ্ধতা যাচাই, মজুরি খরচ এবং বাজারদরের ওঠানামা- এসব বিষয় মিলিয়ে প্রতিটি লেনদেনেই এক ধরনের ‘দর কষাকষি’ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, যা শিল্পের পেশাদারত্বের জন্য অন্তরায় হিসেবে কাজ করছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে সোনা লেনদেনের একটি স্বচ্ছ ও প্রমিত কাঠামো অনুসরণ করা হয়, বাংলাদেশের বাজারকে সেই কাঠামোর কাছাকাছি আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেই এই পলিসিকে দেখা যেতে পারে।

নতুন পলিসিতে কী কী নিয়ম যুক্ত হয়েছে

১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের স্বর্ণালংকার পুনরায় ক্রয় বা বদল করতে চাইলে এখন থেকে নির্দিষ্ট হারে মূল্য কর্তন করা হবে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই নিয়ম শুধু সেই গহনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা গ্রাহক আগে ওই একই প্রতিষ্ঠান থেকে কিনেছিলেন- অর্থাৎ ক্রয়ের প্রমাণ বা রসিদ থাকা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মূল দুটি নিয়ম হলো-

অলংকার বদল: পুরোনো গহনা বদলে নতুন কোনো অলংকার নিতে চাইলে বাজুস নির্ধারিত তৎকালীন স্বর্ণমূল্য থেকে সরাসরি ১২% বাদ যাবে।

অলংকার বিক্রি: পুরোনো সোনা বিক্রি করে নগদ টাকা নিতে চাইলে নির্ধারিত স্বর্ণমূল্য থেকে সরাসরি ১৮% বাদ দিয়ে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বদলের ক্ষেত্রে কর্তনের হার তুলনামূলক কম (১২%), কিন্তু নগদ টাকায় বিক্রির ক্ষেত্রে তা বেশি (১৮%)। এর পেছনে ব্যবসায়িক যুক্তি হলো- গহনা বদল করলে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের হাতে সেই সোনা পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ থাকে এবং নতুন গহনা বিক্রির মাধ্যমে তাদের ব্যবসাও চলমান থাকে। কিন্তু নগদ টাকায় কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি মূলধন খরচ করতে হয়, গলানো, বিশুদ্ধতা যাচাই ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের বাড়তি খরচ বহন করতে হয়- যার প্রতিফলন ঘটছে বাড়তি কর্তনের হারে।

এছাড়া ভ্যাট সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রাহকবান্ধব শর্তও যুক্ত করা হয়েছে- এই ১২% বা ১৮% কর্তনের বাইরে গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে আর কোনো ভ্যাট কাটা যাবে না। এতদিন কিছু প্রতিষ্ঠান কর্তনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভ্যাট বা চার্জ যুক্ত করে প্রকৃত প্রাপ্য অর্থ আরও কমিয়ে দিতো বলে অভিযোগ ছিল। নতুন নিয়মে এই সুযোগ আর থাকছে না, ফলে গ্রাহক আগে থেকেই নিশ্চিত হতে পারবেন যে চূড়ান্ত হিসাবে আর কোনো লুকানো খরচ যুক্ত হবে না।

মজুরি খরচ কেন হিসাবের বাইরে থাকছে

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বোঝা জরুরি- ১২% বা ১৮% কর্তনের এই হিসাব শুধু সোনার কাঁচামূল্য পুনর্মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন গহনা তৈরি বা বদলের সময় যে মজুরি বা তৈরির খরচ যুক্ত হয়, তা এই কর্তনের হিসাবের সম্পূর্ণ বাইরে এবং তা প্রতিটি ডিজাইন ও কারিগরি জটিলতা অনুযায়ী আলাদাভাবে ধার্য হয়।

অর্থাৎ কেউ যদি পুরোনো গহনা বদল করে নতুন কোনো ডিজাইনের গহনা নিতে চান, তবে বাজুস নির্ধারিত ১২% কর্তনের পাশাপাশি নতুন গহনার জন্য নির্ধারিত মজুরিও তাকে বাড়তি হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। ফলে বদল করার প্রকৃত মোট খরচ শুধু ১২% কর্তনের অঙ্কেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তার সঙ্গে মজুরি যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত হিসাব দাঁড়াবে।

সূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন

  • সর্বশেষ