শিরোনাম
◈ যে ৫ কারণে কুরবানির চামড়ার বাজারে ধস! ◈ ফরিদপুরে দুই দিন আগেই ঈদের নামাজ আদায় করলেন পীর ◈ পেঁয়াজের কেজি ১৫ রুপি দাম নির্ধারণ করেছে ভারত সরকার ◈ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না পাকিস্তান, ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান খাজা আসিফের ◈ স্থবির অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ◈ ইরানে আবারও হামলা শুরু, যা জানাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বহুবিবাহ নিষিদ্ধ ও লিভ-ইন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব! ◈ ঈদের আগে ভারতে নতুন বিতর্ক: গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিতে মুসলিম আলেম-সংগঠনগুলো ◈ রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় ◈ ঈদযাত্রায় সায়েদাবাদে তীব্র যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ঘরমুখো মানুষ

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬, ১০:৩৫ রাত
আপডেট : ২৬ মে, ২০২৬, ১১:২৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে কমছে এলপিজির চাহিদা, রান্নায় বিকল্প খুঁজছে মানুষ

এলপিজি গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এর ব্যবহার কমতে শুরু করেছে। সংসারের খরচ সামলাতে অনেক পরিবার এখন গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার রান্নার জন্য ইলেকট্রিক চুলা বা অন্য বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবেশকদের ভাষ্য, চলতি মাসে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ, বাড়তি জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে মানুষ এখন প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত ব্যয় এড়িয়ে চলছেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। সংস্থাটি জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফুয়েল কর্নারের মালিক এবং বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের পরিবেশক সুব্রত সাহা বলেন, দাম বাড়ার পর থেকেই বিক্রি দ্রুত কমে গেছে। আগে তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬০টি ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করতেন, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৩৫টিতে।

তার মতে, অনেক গ্রাহক এখন ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার দিকে ঝুঁকছেন। কারণ, বিদ্যুতে রান্নার খরচ এখন প্রায় এলপিজির সমান হয়ে গেছে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার বহন ও পরিবহনের ঝামেলাও এড়ানো যায়।

পেট্রোম্যাক্স এলপিজির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত দেড় মাসে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। তার ভাষ্য, এক মাসের মধ্যেই দেশে এলপিজির মাসিক চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন থেকে কমে ১ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। অর্থাৎ অল্প সময়েই দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

তার মতে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগেই কমে গেছে। এর মধ্যে রান্নার খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চাপে পড়েছে।

এদিকে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কোম্পানি সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। গ্রাহক ধরে রাখতে কিছু প্রতিষ্ঠান ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ও দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। এতে পুরো খাতেই ব্যয় বেড়েছে।

তার মতে, এই পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে প্রায় ৬ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই আবার পুরোনো জ্বালানির দিকে ফিরে যাচ্ছেন।

তবে তিনি আশার কথা শুনিয়ে বলেন, বাজারে ধীরে ধীরে ভারসাম্য ফিরতে শুরু করেছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক খুচরা বিক্রেতা এখন সরকারি নির্ধারিত দাম মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ছে এবং ক্রেতাদের আস্থাও ফিরছে।

বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, মূল্যস্ফীতি ও গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে শহর ও গ্রাম—সব জায়গাতেই চাহিদা কমেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।

ইউনাইটেড আয়গ্যাজ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন ওরতাচ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের জন্য স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে তার মতে, সময়মতো বিইআরসির মূল্য সমন্বয় ও নীতিগত সহায়তার কারণে দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের সংকট এড়ানো গেছে।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়