ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ গরু চোর সন্দেহে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হাবিব হোসেনের পরিবার এখনো কোন মামলা না করলেও ওই ঘটনায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানাতে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে গনপিটুনিতে গুরুতর আহত সুমন হোসেনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে ২/৩ ’শ অজ্ঞাত ব্যাক্তিকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপরদিকে গরু চুরির অভিযোগে বাদুরগাছা গ্রামের ওবায়দুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন একটি মামলা দায়ের করেছেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বারোবাজার এলাকায় গরু চুরি সন্দেহে গনপিটুনিতে হাবিব নিহত ও সুমন আহতের ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন যশোরের আরাপপুর গ্রামের মৃত আয়ুব হোসেনের পুত্র।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বারবাজার এলাকায় গ্রামবাসীরা গরু চুরি সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে যশোর সদরের আরাবপুরের হাবিব নিহত ও অপরজন আহত হয়। এ ঘটনায় আহত সুমনের বড় ভাই বাদী হয়ে থানাতে একটি এজাহার দিয়েছেন। এবং চুরি হওয়া গরুর মালিকও একটি এজাহার দিয়েছেন। তবে, ওই ঘটনায় নিহতের পরিবার এখনো কোন অভিযোগ না দিলেও তারা থানাতে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তিনি জানান, কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা আইনসম্মত নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়ার বিধান রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গগত, ওইদিন রাতে বারবাজার ইউনিয়নের বাদুরগাছা গ্রামের ওবায়দুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের বাড়ী থেকে একটি গরু চুরি হয়। স্থানীয়রা চুরির বিষয়টি জেনে চোরদের সন্ধানে বেরিয়ে রাত ৩টার দিকে পিরোজপুর বটতলা এলাকা থেকে দুই জনকে পাকড়াও করে। পরে তাদেরকে বাদুরগাছা গ্রামে নিয়ে গেলে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই হাবিব হোসেনের মৃত্যু ও অপর ভাই গুরুতর আহত হয়।