এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : বাগেরহাটের মোংলায় তীব্র লবণাক্ততার কারণে সৃষ্ট সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে উপকূলীয় মানুষের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার সকালে মোংলার দিগরাজ এলাকায় বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে চিলা, চাঁদপাই, সোনাইলতলা, মিঠাখালী ও সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝেও এসব পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোংলার আয়োজনে রোববার উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবারের মধ্যে এ পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোংলার উপসহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান জনিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উপকূলে সুপেয় পানির সংকট
পানির ট্যাংক বিতরণকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, তীব্র লবণাক্ততাপ্রবণ উপকূলীয় মোংলাসহ আশপাশের এলাকায় সুপেয় পানির মারাত্মক সংকট রয়েছে। এই সংকট নিরসনে এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে ব্যবহারের জন্য উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, উপকূলের প্রত্যেকটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সুপেয় পানির উৎস সৃষ্টি করতে সরকারি পুকুরগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উপকূলের কোনো মানুষ যেন সুপেয় পানির জন্য কষ্ট না পায়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃষ্টির পানি হবে সুপেয় পানির বিকল্প উৎস
উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ ও সুপেয় পানির সংকট প্রকট। এ বাস্তবতায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পরিবারের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃষ্টির মৌসুমে ট্যাংকে পানি সংরক্ষণ করে তা পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা গেলে উপকূলের বহু পরিবারের সুপেয় পানির সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লবণাক্ততার কারণে অনেক এলাকায় নিরাপদ পানির উৎস সীমিত। ফলে দূরবর্তী স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। বাড়িতে পানির ট্যাংক পেলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা প্রয়োজনের সময়ে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
উপকূলীয় মানুষের সুপেয় পানির দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে পানির ট্যাংক বিতরণের পাশাপাশি সরকারি পুকুর পুনঃখনন, নিরাপদ পানির স্থায়ী উৎস সৃষ্টি এবং লবণাক্ততা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।