শিরোনাম
◈ ডিসি-এসপির সহায়তায় ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন চুয়েট উপাচার্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান (ভিডিও) ◈ দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে ম্যাচ ড্র করলো আফগানিস্তান ◈ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়, বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হলিউড অভিনেত্রী ◈ বাংলাদেশে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’, বিদেশি যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা (ভিডিও) ◈ নিউইয়র্কে অপ্রীতিকর ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন লামিয়া মোর্শেদ ◈ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয়-নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা ◈ সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলকে আবারও আলোচনায় আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ◈ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্রের নথি কিনেছে ৩ বিদেশি কোম্পানি ◈ জমি জটিলতায় দুই বছরেও খনন হয়নি সিলেটের ২ গ্যাস কূপ, ঝুঁকিতে ৫৬ বিসিএফ গ্যাস উৎপাদন! ◈ ঢাকা-কুমিল্লা উড়াল রেলপথে ব্যয় ৮৪ হাজার কোটি টাকা, কমবে চট্টগ্রামের দূরত্ব

প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৪৬ রাত
আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৩৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পুঠিয়া রাজবাড়িতে রাজস্ব বাড়লেও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ছাড়াচ্ছে আয়

আবু হাসাদ (কামাল ), পুঠিয়া প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় রয়েছে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এখানকার ইতিহাস সমৃদ্ধ রাজবাড়ী ও জাদুঘর দেখতে প্রতিবছর দেশ বিদেশে থেকে অসংখ্য পর্যটক আসে। এসব নিদর্শন পরিদর্শন থেকে প্রতিবছর সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব পেলেও আয়ের চেয়ে রাজবাড়ীর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বেয়াই অনেক বেশি বলে জানা গেছে।

রাজবাড়ী ও জাদুঘর এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুঠিয়া রাজবাড়ী ও জাদুঘর থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধারাবাহিক বৃদ্ধি পেয়েছে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে দেশে বিদেশে পর্যটক থেকে আয় হয়েছিল ৯ লক্ষ ৯৫ হাজার ১৯৫ টাকা। পরবর্তীতে ২২-২৩ অর্থ বছরে দেশে-বিদেশে পর্যটক থেকে রাজস্ব আদায় হয় ১৫ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫৫৫ টাকা। ২৩ ও ২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ৩১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩১০ টাকা। ২৪-২৫ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৮ লক্ষ ৫২ হাজার ৫৫০ টাকা এছাড়া ২৫-২৬ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৪৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৮৮ টাকা। যদিও বছর ভিত্তিক আয়ের এই চিত্র বেশ আশাব্যঞ্জক, কিন্তু এর উল্টো পিঠে রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের বিপুল খরচের হিসাব। রাজবাড়ী ও প্রত্নযাত্রীক এলাকা সুরক্ষায় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ও কাস্টোডিয়ানের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খাত মিলিয়ে প্রতিবছরে ব্যয় হচ্ছে ৬০ লক্ষ টাকারও বেশি।

পুঠিয়া প্রত্নতাত্ত্বিক এ নিজস্ব গুলির মধ্যে যেগুলো রয়েছে সেগুলো হলো, পুঠিয়া রাজবাড়ী, বড় গোবিন্দ মন্দির, রানী মহল ও রানীর ঘাট, ছোট আহ্নিক মন্দির, বড় শিব মন্দির, রথ মন্দির, দোল মন্দির, বড় আহ্নিক মন্দির, গোপাল মন্দির, ছোট গোপাল মন্দির, ছোট শিব মন্দির, রাজকর্মচারীদের (আবাসস্থল অতিথি শালা মালখানা ও পরেশ নারায়ণ স্কুল), হাওয়াখানা, গোপাল মন্দির ( সালামের মঠ),গিরিশ চন্দ্রের মাঠ ( শিব মন্দির), কেষ্ট খ্যাপার মঠ এছাড়াও কিসমত মারিয়া মসজিদ।

পুঠিয়া রাজবাড়ি জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন ,পুঠিয়া ঐতিহাসিক দিক থেকে একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে সর্বমোট ১৭ টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে, যা আমাদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতির এক অনন্য দলিল। তবে একটি বিষয় গুরুত্ব সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন এই ১৭ টি ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে কেবল পুঠিয়া রাজবাড়ী থেকে সরকার রাজস্ব আয় করছে। বাকি ১৬ টি নিদর্শন দেখতে হাজারো দর্শনার্থী  আসলেও সেখান থেকে কোনো রাজস্ব সংগ্রহ হচ্ছে না।
অথচ এই ১৬ টি স্থানের দায়িত্ব বজায় রাখতে এবং নিরাপত্তায় প্রতিনিয়ত সরকারি অর্থ ব্যয় করে আনসার ও নিরাপত্তাকর্মী বহল রাখা হচ্ছে। ফলে সার্বিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ খরচের  তুলনায় অর্জিত রাজস্বে বড় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। আমাদের দাবি ও প্রত্যাশা হল কর্তৃপক্ষ যদি বাকি ১৬ টি নিদর্শনীয় স্থান সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে টিকিটের ব্যবস্থা চালু করে তবে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের রাজস্ব আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে প্রাপ্ত বাড়তি রাজস্ব দিয়ে ওই ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো রক্ষণাবেক্ষণও আরো উন্নত ও মানসম্মত উপায়ে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানান।

  • সর্বশেষ