বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ আবার বাড়ছে। বিশেষ করে চীন ও তুরস্কের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্রের নথি কেনার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে।
পেট্রোবাংলার দরপত্র বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ২০২৬ সালের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত চীনের সিনোপেক, সিএনওওসি ইন্টারন্যাশনাল এবং তুরস্কের টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি (টিপিএও) দরপত্রের আনুষ্ঠানিক তথ্যপ্যাকেজ বা 'প্রমোশনাল প্যাকেজ' কিনেছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সিনোপেক দরপত্রের তথ্যপ্যাকেজ ও প্রয়োজনীয় নথির পাশাপাশি বিশেষায়িত 'ডেটা প্যাকেজ' কিনেছে। সমুদ্রের তলদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং সম্ভাব্য তেল-গ্যাসের মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর মধ্য দিয়ে দরপত্র প্রক্রিয়ার আরও অগ্রসর ধাপে পৌঁছানো সর্বশেষ বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানি হিসেবে যুক্ত হয়েছে সিনোপেক।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট সিএনওওসি ইন্টারন্যাশনাল আনুষ্ঠানিক তথ্যপ্যাকেজ কেনে। আর ২৩ জুলাই দরপত্রের নথি কেনে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী শাখা টিপিএও।
সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গত ২৪ মে দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ। এতে বঙ্গোপসাগরের অগভীর সমুদ্রের ১১টি ও গভীর সমুদ্রের ১৫টিসহ মোট ২৬টি তেল-গ্যাস ব্লক আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে অনুসন্ধানের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৩০ নভেম্বর।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বিপি, এক্সনমবিল, মারফি অয়েল, পেট্রোব্রাস ও কুফপেকের মতো বিশ্বের বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দরপত্র প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর দরপত্রের নথি কেনা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কারণ, সমুদ্রের তেল-গ্যাস ব্লকের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানিগুলো সাধারণত সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন ও কারিগরি তথ্য বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো. শোয়েব বলেন, এখন পর্যন্ত ১০টি কোম্পানি তথ্যপ্যাকেজ কিনেছে। তবে দরপত্রের নথি কিনেছে তিনটি কোম্পানি।
তিনি বলেন, "আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলোতে আরও কয়েকটি বড় জ্বালানি কোম্পানি দরপত্রের নথি কিনবে। এ বিষয়ে এক্সনমবিল, বিপিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।"
তথ্যপ্যাকেজ কেনায় আরও কোম্পানির আগ্রহ
সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহের পর্যায়েও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
পেট্রোবাংলার আনুষ্ঠানিক বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্যাকেজ কেনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দেশীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
তথ্যপ্যাকেজ কেনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বেরিঞ্জিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড, ক্রিসএনার্জি, পিইএএল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এবং ওনোডা ইনকরপোরেটেড।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি এবং দেশীয় অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডও তথ্যপ্যাকেজ কিনেছে।
তালিকায় রয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইমপ্রেশন ভেঞ্চারস এজিও। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিনোপেক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড তথ্যপ্যাকেজের পাশাপাশি দরপত্রের আনুষ্ঠানিক প্যাকেজ এবং বিশেষায়িত ডিএসপি-২ ও ১০ ডেটা প্যাকেজ কিনে দরপত্র প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
তথ্যপ্যাকেজে সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক তথ্য দেওয়া হয়। অন্যদিকে, দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর জন্য প্রমোশনাল প্যাকেজ ও বিশেষায়িত ডেটা প্যাকেজে আরও বিস্তারিত তথ্য থাকে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে কোম্পানিগুলো দরপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এক্সনমবিল, বিপি ও এনির সঙ্গে আলোচনা
সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে বিশ্বের বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এর অংশ হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক্সনমবিল, বিপি ও এনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল।
সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বানের পরপরই পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান এক্সনমবিল। পরে পেট্রোবাংলার সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠকও করে প্রতিষ্ঠানটি। বৈঠকে এক্সনমবিলের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এক্সনমবিল জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করা হলে à¦