শিরোনাম
◈ জামায়াত থেকে বহিষ্কার, এমপি পদ হারাবেন গাজী নজরুল? সংবিধান যা বলছে ◈ বিদ্যুৎ বিল আদায় ও সেবার মান বাড়াতে বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা সরকারের ◈ বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী নারী ◈ সৌদির বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ অবরোধের নিন্দা জানাল বাংলাদেশ ◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ ◈ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় স্বস্তি, সহজ হলো বৈদেশিক আয় দেশে আনার প্রক্রিয়া ◈ জিম্বাবুয়ে ব্যর্থ মিশন শেষে দেশে ফিরলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ◈ লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলেন তাসকিন আহ‌মেদ ◈ বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে তিস্তার পানি, প্লাবনের শঙ্কা ◈ আমদানি কম, উৎপাদনেও ধাক্কা—কাঁচামরিচের দামে আগুন

প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৫৯ বিকাল
আপডেট : ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আমদানি কম, উৎপাদনেও ধাক্কা—কাঁচামরিচের দামে আগুন

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরে বিভিন্ন হাটবাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১৩০ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে বর্তমানে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার, সুইহারী বাজার, রামনগর বাজার, উপশহর বাজার, পুলহাট বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

জেলার সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজার বাহাদুর বাজারসহ উপজেলার ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দিনাজপুরসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে টানা বৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে আমদানি কমে গেছে। সে কারণে মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা গেছে, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির জন্য এলসি খোলা হলেও দেশে মরিচ এসে পৌঁছাবে আগামী শনিবার। আবার আমদানি হলেও এর প্রভাব দিনাজপুরে মরিচের দামের ওপর প্রভাব পড়ছে না। কারণ আমদানি হওয়া কাঁচা মরিচ দিনাজপুরের বাজারে পাওয়া যায় না। সব চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে। চাহিদার তুলনায় কাঁচামরিচ আমদানি কম হওয়ায় এবং বৃষ্টির কারণে দেশে উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য দিকে নিত্য প্রয়োজনীয় মসলা ও সবজি জাতীয় পণ্যেরও দাম বাড়ছে। পটোল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা ও শসা ১০০ টাকা ও ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা কেজি। মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে বাহাদুর বাজারে বাজার করতে আসা আতাউর রহমান বলেন, সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি। আগে এক পোয়া নিলেও আজকে ২৫ টাকা দিয়ে নিলাম ১০০ গ্রাম। এভাবে দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের চলা কঠিন হবে।

এছাড়াও দিনাজপুরের চিরিবন্দর, বিরল, বীরগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, ফুলবাড়ী ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বাজারগুলোতেও খবর নিয়ে একই খবর পাওয়া গেছে।

বিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী কুদ্দুস আলী বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে মরিচ নষ্ট হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে না। সেই কারণে বাহির থেকে বেশি দামে কাঁচামরিচ কিনে আনতে হচ্ছে।

বাহাদুর বাজারের সহরাফ আলী নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমদানি কম তাই দাম বেড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনেছি তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। শুনেছি হিলি স্থলবন্দ দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। তবে সেই এলসির মচির আগামী শনিবারের (২৫ জুলাইয়ের) আগে স্থলবন্দরে এসে পৌঁছাবে না। যদি শনিবারে এসে পৌঁছায় তবে রোববারের আগে বাজারে এসে পৌঁছাবে না।

ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিরাহাট গ্রামের কৃষক জনাব আলী বলেন, বৃষ্টির এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে মরিচ গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। গাছ মরে যাছে। ফলে মরিচের উৎপাদন কম হচ্ছে। ১০ কাঠা জমিতে মরিচ লাগিয়েছিলাম। ১৫ দিন পর মাত্র ২০ কেজি মরিচ তুলতে পেরেছি। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল ইসলাম বলেন, ৫০ শতক জমিতে এবার মরিচ আবাদ করেছি। খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। মরিচের গাছ বৃষ্টির কারণে মরে যাচ্ছে। আজ ১ হাজার গাছ থেকে মরিচ তুলেছি মাত্র ৪৪ কেজি। পাইকারি ২১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। মরিচের গাছ নষ্টের কারণে ফলন কম হওয়ায় লোকশান গুনতে হচ্ছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক বলেন মো. আনিছুজ্জামান বলেন, এ বছর দিনাজপুরে খরিব-১ মৌসুমে মরিচ আবাদ হয়েছে ৬৬৮ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৩২ টন। যা এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়াও খরিব-২ মৌসুমের মরিচ চাষ শুরু হয়েছে। এ মৌসুমে জেলায় ১০৩ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হবে।

দিনাজপুর কৃষি বিপণন সিনিয়র কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, লাগাতার বৃষ্টির কারণে মরিচ চাষিদের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় ফলন কম হচ্ছে। ফলে মরিচের দাম দিন দিন বাড়ছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়