মোঃ বশির উদ্দিন, ডেমরা (ঢাকা) প্রতিনিধি : স্ত্রী-শ্বাশুরীর অপমান-অপদস্তে রাজধানীর ডেমরায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মো. সাইদুল ইসলাম (১৯) নামে পুলিশ সদস্য গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মৃতের পরিবার।
এ ঘটনায় গত সোমবার দিবাগত রাতে সাইদুলের স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ীর ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ডেমরা থানায় মামলা দায়ের করেন মৃতের বাবা মো. ছাদেক (৫৭)। আসামিরা হলেন- নিহত পুলিশ সদস্য সাইদুলের স্ত্রী-ফেনীর সোনাগাজী থানার ফালগিড়ী গ্রামে খলিল বেপারি বাড়ীর আইয়ুব আলীর মেয়ে রুবাইয়া সুলতানা (১৯), তার মা তামান্না আক্তার (৪৫), বাবা আইয়ুব আলী (৫০), বোন সুমাইয়া সুলতানা (২৫) ও সরাইয়া সুলতানা (২৩)। বর্তমানে আসামিদের কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
মামলার বাদি মো. ছাদেক জানান, তিনি একজন ভ্যানগাড়িতে বেকারির মালামাল বিক্রি করেন। অনেক কষ্ট করে রোজগার ও ঋনের টাকা দিয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করান তিনি। পুলিশের চাকুরিতে যোগদানের পর ছেলেকে নিয়ে অনেক সপ্ন ছিল পরিবারের সবার। বিশেষ করে ছেলের রোজগারে ঋন পরিশোধসহ সংসারের সচ্ছলতা ফিরে আসবে এমন প্রত্যাশা ছিল বাবা-মায়ের।
তিনি আরও বলেন, এ বছর গত ৪ মে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক রুবাইয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সাইদুলের। তাদের মধ্যে স্কুল জীবন থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এদিকে বিয়ের পর ছাইদুলের বাড়ী থেকে গত ২২ মে পরীক্ষা দিতে তার মাদ্রাসায় যায় রুবাইয়া। ওই দিন মাদ্রাসা থেকে বাবার সঙ্গে পিত্রালয়ে চলে যায় রুবাইয়া। পরবর্তীতে পিত্রালয় থেকে গত ২৫ মে শ্বশুর বাড়ীতে এসে রুবাইয়া ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করে পুণরায় পিত্রালয়ে চলে যায়। পরে স্ত্রী-শ্বাশুরীকে ফোন দিলে মোবাইল ফোনে তারা সাইদুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় তাকে গরীব ও ছোটলোক বলাসহ নানাভাবে অপমান অপদস্ত করে। আর এ অপমান সহ্য করতে না পেরে ফেসবুবে পোস্ট গত ১৬ জুলাই রাতে সাইদুল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
মৃতের পরিবারের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, রাজাখালী সাকিনস্থ পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইন্স এর ২০ তলা ভবনের ৯ম তলার ৯০৯ নং কক্ষে সাইদুল ইসলাম (পুলিশ সদস্য কং/৯৫৪৭) সিলিং ফ্যানের সাথে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট ও তদন্ত সাপেক্ষে সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে যাবে। গোপনে বিয়ে করার পর স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে এ আত্মহত্যা করেছেন বলে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। ওই পোস্টে তিনি তার বিবাহ ও আবেগঘন অনেক কথাই উল্লেখ করেছেন। সাইদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ী ফেনীর সদর থানার উত্তর চাঁদপুর গ্রামে। তিনি ওই পুলিশ লাইন্সের সি কোম্পানিতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন| এর আগে এ বিষয়ে নিহতের বাবা ডেমরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইন্স এর ইনচার্জ (ডিসি) কাজী নুসরাত লুনা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সাইদুলের স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে মতের পার্থক্য দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ফেসবুক পোস্টে তিনি আবেগ ঘন কিছু বিষয় উল্লেখ করতে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছেন।