শিরোনাম
◈ সংস্কার না হলে আরও কমতে পারে প্রবৃদ্ধি, সতর্ক করল আইএমএফ ◈ ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অজনপ্রিয় সামরিক অভিযান: সিএনএনের বিশ্লেষণ ◈ এমপি নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ধোঁয়াশা, কাজীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক ◈ স্বর্ণ-নগদ টাকা নিয়ে ভাতিজার সঙ্গে উধাও চাচি, থানায় অভিযোগ চাচার ◈ এলএনজি টার্মিনাল বিকল, বেড়েছে গ্যাস সংকট ◈ আইন প্রণয়ন ও কমিটি গঠনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ টিআইবির ◈ বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ ◈ এনআইডি সংশোধনে মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি, অনলাইনে হবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন ◈ পূর্বশত্রুতার জেরে রাজধানীতে বিএনপি কর্মী খুন ◈ ঘুষিকাণ্ডে বিতর্কে জড়ানোর পর প্রথমবার মুখ খুললেন পারেদেস

প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬, ০২:০৪ রাত
আপডেট : ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এমপি নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ধোঁয়াশা, কাজীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও এবং তার দাবি করা দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিডিও প্রকাশের পর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম আলোচিত তরুণী মরিয়ম খাতুনকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও, বিয়ের কাবিননামা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়ে দেখা দিয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে ঢাকার মগবাজার এলাকার একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায়। ভিডিওগুলো প্রকাশের পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রথমদিকে তার সমর্থকদের একটি অংশ ভিডিওগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ভিডিওতে থাকা মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

তবে বিয়ের দাবির পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামা নিয়ে নতুন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এমপি দাবি করেছেন, গত ১৭ জুন তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু কাবিননামা নিবন্ধনকারী কাজী মাওলানা বি.এ.এম. বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন, বিয়ে কোথায় বা কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

তিনি জানান, গত সোমবার গভীর রাতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানানো হয় যে ঢাকায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং নিবন্ধনের দায়িত্ব তাকে নিতে হবে। পরে ফোনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি কাবিননামা প্রস্তুত করেন।

কাজী আরও বলেন, কনের বাবা ফোনে সম্মতি দেন এবং পরদিন সকালে কনে ও তার অভিভাবক এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন। তার দাবি, ১৭ জুনকে বিয়ের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করার নির্দেশনাও ফোনেই দেওয়া হয়েছিল।

তবে কথোপকথনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা যায়। একদিকে তিনি বলেন, বিয়ের তারিখ ১৭ জুন নির্ধারণ করে দিতে তাকে বলা হয়েছিল, অন্যদিকে জানান, প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেই তিনি পেয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা ভাই, আমি যাতে বিপদে পড়ে না যাই, আমাদের কেন বিপদে ফেলেছেন’ বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে ভিডিও ভাইরালের পর পৃথক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, পারিবারিকভাবে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীকে কয়েকজন ব্যক্তি ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। ভিডিওতে তাকে উদ্দেশ করে ‘জামায়াত হয়ে এই কাজ কীভাবে করলেন?’ এবং ‘অন্যায় করেছেন কিনা?’—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি মাথা নেড়ে বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, আজই প্রথম।’

একপর্যায়ে তরুণীর নাম জানতে চাইলে তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার পর ‘মাহি’ নাম উল্লেখ করেন। একই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা ভিডিও ডিলিট করে দেন, সবকিছু বলছি।’

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় মরিয়ম খাতুনের জন্মতারিখ ২২ মে ২০০৮ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মরিয়মের একটি বায়োডাটায় গত ২২ জুন গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সুপারিশ রয়েছে। ওই বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রশ্ন, যদি ১৭ জুন বিয়ে হয়ে থাকে, তাহলে ২২ জুনের বায়োডাটায় তাকে অবিবাহিত দেখানো হলো কেন? এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ভেতরেও চাপা অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে। তবে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা খোঁজখবর নিচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভিডিও, কাবিননামা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন সামনে এলেও, পুরো ঘটনার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। উৎস: কালবেলা।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়