রাজধানীর সবুজবাগে পূর্বশত্রুতার জেরে পলাশ (৩৬) নামে এক ওয়ার্ড বিএনপির কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সবুজবাগের রাজারবাগ পানির পাম্পসংলগ্ন গলিতে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে তাঁকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বন্ধু মো. হিরা জানান, পলাশ আগে ভাড়ায় গাড়ি চালাতেন, বর্তমানে বেকার ছিলেন। তিনি সবুজবাগ ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এলাকার মাদক কারবারি ও রিকশা চোর হিসেবে পরিচিত রয়েল ও তার সহযোগীরা পানির পাম্পের গলিতে পলাশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
হিরা আরও জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রিকশা চুরির অভিযোগে সবুজ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হলেও পরে রয়েল তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এ নিয়ে পলাশের সঙ্গে রয়েলের কথা-কাটাকাটি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাঁদের ধারণা।
হাসপাতালে নিহতের বোন জোসনা আক্তার জানান, তাঁদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে। তিনি বিএনপির রাজনীতি করতেন। বর্তমানে পলাশ সবুজবাগের মাদারটেক চৌরাস্তা এলাকায় থাকতেন। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। কিছুদিন আগে রয়েল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। তবে কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তারা নিশ্চিত নন।
সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান বলেন, সবুজবাগ এলাকায় একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে এসেছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।