এল আর বাদল : যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন জাতি সংঘের মহাসচিব পদে বসুন ফিফার সর্বময়কর্তা জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের মতে, ফিফা সভাপতিকে জাতিসংঘের মাথায় বসানোর প্রস্তাব করেছেন ট্রাম্প। এমনিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইনফান্তিনোর অতি মাখামাখি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। অনেকের মতে, কার্যত আমেরিকার কাছে ফিফাকে বিকিয়ে দিয়েছেন ইনফান্তিনো। এবার বিশ্বকাপ শেষ হতেই সেই ‘দাসত্বে’র পুরস্কার পেতে পারেন ফিফা সভাপতি।
আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর খবর অনুযায়ী ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, ‘ইনফান্তিনো বিশ্বের সব জায়গায় সম্মান পান। মানুষকে একছাতার তলায় নিয়ে আসার বিশেষ ক্ষমতা আছে ওঁর মধ্যে।’ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই জাতি সংঘের সচিব পদে নির্বাচন। আপাতত ওই পদে আছেন পর্তুগালের আন্তোনিও গুতেরেস। সুইজারল্যান্ডের ইনফান্তিনো নিজে এই পদে বসতে চান কি না, সেটা এখনও জানা যায়নি। তবে ট্রাম্প ‘নিজের লোক’ বসাতে চাইছেন।
সচিব হতে গেলে ইনফান্তিনোকে প্রথমে ১৫-সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পেতে হবে। যেখানে পাঁচজন স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। আপাতত ওই পদের জন্য সাতজন দৌড়ে আছেন। যদি ওই সংবাদমাধ্যমের মতে ট্রাম্পের কাছে সাতজনই ‘দুর্বল’ প্রার্থী। এঁদের মধ্যে আছেন চিলির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও সোশালিস্ট পার্টির মিশেল বাশালে। আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, যিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বর্তমান প্রধান পরিচালক।
সম্প্রতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ‘ফকল্যান্ড আমাদের’ ব্যানার নিয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। যদি এঁরা সচিব না হতে পারেন, তাহলে রাষ্ট্রসংঘ গত ৪৫ বছরে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কোনও সচিব পাবে না। অনেকের মতে, শুধু ট্রাম্প নন, ইনফান্তিনো একাধিক মনোনয়ন পেতে পারেন।
বিশ্বকাপে নানা বিতর্কের জেরে ইউরোপীয় ফুটবলে এই মুহূর্তে ইনফান্তিনো সমালোচনার মুখে। প্রথা ভেঙে স্পেনের হাতে ট্রফি তুলে দিয়েছেন ট্রাম্প। তার আগে ফিফা শান্তি পুরস্কার দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। গত কয়েক মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর মাখামাখি নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠেছিল। সেটার পুরস্কার পেতে চলেছেন ফিফা সভাপতি।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি হওয়া জাতিসংঘের অন্যতম কাজ বিশ্বশান্তি রক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, যে বিশ্বকাপে ইরানের ফুটবলারদের নাকি দড়ি দিয়ে ঘোরানো হয়। প্রাক্তন ফুটবলার বা রেফারিকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয় না। অথচ ফিফা সভাপতি নিশ্চুপ থাকেন। তিনি কি আদৌ জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়ার যোগ্য?