হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর কোতয়ালী থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাব-১০। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে তিনটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড, ৪১টি শটগান কার্তুজ এবং ৩০টি গ্যাস গানের তাজা কার্তুজ সদৃশ বস্তু।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে র্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ফরিদপুর শহরের বিএডিসি অফিসের দক্ষিণ পাশের প্রাচীরের বাইরের অংশে, চরকমলাপুরগামী সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটির সংলগ্ন ঝোপঝাড়ের ভেতর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে র্যাবের ধারণা, উদ্ধার হওয়া গ্রেনেড ও কার্তুজগুলো ফরিদপুর কোতয়ালী থানা থেকে পূর্বে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র ও গোলাবারুদের অংশ।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান”-কে কেন্দ্র করে একদল দুষ্কৃতিকারী দেশের বিভিন্ন থানায় একযোগে হামলা চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নেয়। পরবর্তীতে এসব অস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ায় সারাদেশে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুরু থেকেই র্যাব ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনার পর থেকেই র্যাব আরও সক্রিয় ও দক্ষতার সঙ্গে মাঠে কাজ করছে বলে জানানো হয়।
এই অভিযানে র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস দল অংশ নেয়। উদ্ধারকৃত গ্রেনেডগুলো ধাতব লিভার সংযুক্ত এবং অবিস্ফোরিত অবস্থায় ছিল, যা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে র্যাব।
র্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম বলেন, “দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী তৎপরতা প্রতিরোধে র্যাব সর্বদা প্রস্তুত। জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাব।”