শিরোনাম
◈ বয়কট আলোচনার ম‌ধ্যে টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকাপের জন্য বিমা‌ন বুক করেছে পাকিস্তান  ◈ এক যুগ পর আজ শুরু হচ্ছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট ◈ ১৮ মিনিট আগেগণভোটে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা ◈ রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ পেতে বাধা কাটলো   ◈ বাংলা‌দেশ বিশ্বকাপ খেল‌ছে না ব‌লে খা‌লেদ মাহমুদ সুজ‌নের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের অনুভূত হ‌চ্ছে ◈ জয় শাহর ৮ বার কল, সাড়া দিলেন না পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি ◈ জামায়াত নেতা হত্যা: ঝিনাইগাতীর ইউএনও ও ওসি প্রত্যাহার ◈ আগামীকালই হবে ৫০তম বিসিএস পরীক্ষা ◈ রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন: প্রধান উপদেষ্টা ◈ ৪০ পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৪৭ রাত
আপডেট : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাত কলেজে প্রশ্নফাঁস: তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, মুখ খুলছেন না কমিটির প্রধান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি জানা যায়নি। কমিটি গঠনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের একাধিক তথ্য ও প্রমাণ অনলাইনে প্রকাশ পায়। কিন্তু এসব তথ্য প্রকাশের পরও ২২ জানুয়ারি ফাঁস হওয়া প্রশ্নের ওপরই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তখন থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।

ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাত কলেজ প্রশাসনের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যায়। একই দিন সাত কলেজ প্রশাসন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে কমিটি গঠনের পর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক সপ্তাহ পার হলেও তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নায়লা আক্তার। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দিল্লুর রহমান এবং ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক কোহিনুর আক্তার।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক নায়লা আক্তার বলেন, তদন্ত কার্যক্রম সবেমাত্র শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে কোনো তথ্য দেওয়া হবে না। তদন্ত কতদূর এগিয়েছে বা কী পাওয়া গেছে, তা জানানো সম্ভব নয়। বিষয়টি গোপনীয় এবং এটি কমিটির নিজস্ব কাজ।

তদন্ত শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তথ্য ও প্রমাণ কতটা দ্রুত পাওয়া যাবে, তার ওপর সময় নির্ভর করে। প্রয়োজনীয় তথ্য না পেলে তদন্ত দীর্ঘ হতে পারে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, বারবার প্রশ্ন করলেই উত্তর দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হলে কাউকে কিছু জানানো হবে না। প্রয়োজনে সাংবাদিকদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে সাত কলেজের সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, তদন্ত কমিটি বর্তমানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি।

তদন্ত কত দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হলে তা বিবেচনা করে অনুমতি দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি সাত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যায় পর্যন্ত পরীক্ষার প্রশ্ন অর্থের বিনিময়ে ফাঁসের একাধিক তথ্য ও প্রমাণ সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে আসছে। পরীক্ষার তিন থেকে চার দিন আগে গোপনীয়তা বজায় রেখে কলেজগুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে প্রশ্নফাঁসের কার্যক্রম চললেও সম্প্রতি নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ সামনে আসায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সূত্র: ঢাকা মেইল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়