প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজধানীর বাইরেও বাড়ছে ডেঙ্গুর বিস্তার পাচঁ দিনে আবারও রেকর্ড ভাঙ্গলো

শাহীন খন্দকার : [২] স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ঢাকার বাইরে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় দেড়শ’। সাভার, দোহার, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর পেছনে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

[৩] এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এটিই এখনও পর্যন্ত একদিনে সর্বাধিক রোগী। ৭ দিনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ২ হাজার ৭৮ , মঙ্গলবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।

[৪] অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ঢাকার বাইরে নতুন ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৭ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ৩৪৩ জন। রাজধানীতে নতুন ভর্তি রোগী ২৮৬ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্নসরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তিরোগী ১ হাজার ২৮১ জন। এদিকে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে ১ হাজার ১৩৩ জন।

[৫] এছাড়াও অন্যান্য বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে ১৪৮জন। অন্যদিকে চলতি বছর জানুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর ৭ তারিখ পর্যন্ত মোট ভর্তি ডেঙ্গু রোগী ১২ হাজার ৪৩৪ জন। এদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ১১ হাজার ১০১ জন।

[৬] অন্যদিকে আগস্ট মাসে সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত ৭ হাজার ৬৯৮ জুলাইতে ২ হাজার ২৮৬ জন। জুনে ২৭২ জানুয়ারীতে ৩২ ফেরুয়ারীতে ৯ মার্চে ১৩ আর এপ্রিলে ৩ এবং মে মাসে ৪৩ জন বলে নিশ্চিত করেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ইউনিট (এম আই এস) হেলত ইমার্জেন্সি অপারেশন কণ্ট্রোল রুমের তথ্য থেকে এসব জানা যায়।

[৭] আগস্ট শেষে সেপ্টেম্বরে এসেও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ’র বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। শুরুতে বেশিরভাগ রোগীই ছিলো ঢাকার। কিন্তু, শংকার ব্যাপার হলো গেলো কয়েকদিন ধরে ঢাকার বাইরেও অনেক মানুষ মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

[৮] বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর সাথে দুই ধরণের মশা জড়িত, তার একটি এডিস এলবোপিক্টাস। অন্যটি এডিস ইজিপ্টাই। যার মধ্যে ইজিপ্টাই ঢাকা বা শহরাঞ্চলে বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এডিস এলবোপিক্টাসের মাধ্যমেই গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু যখন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিলো সেবারও গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এবার যেনো সেই ভয়াবহতার পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য এখনই ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ তাদের। এজন্য এডিস এলবোপিক্টাস মশা জন্মানোর প্রাকৃতিক উৎস ধ্বংস করতে হবে।

[৯]ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনার প্রকোপ কমে আসায় সব হাসপাতালকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য খুলে দেয়ার কথা বলছেন তারা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বারবারই জনসচেতনতার উপর জোর দেয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও জনসচেতনতার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভার সক্রিয় ভূমিকা পালন জরুরি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত