স্পোর্টস ডেস্ক : জেলে বন্দি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও প্রাক্তন অধিনায়ক ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে সরব হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে লারা জানান, ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তিনি বিস্মিত। তাঁর দাবি, প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ককে অবিলম্বে উপযুক্ত ও স্বাধীন চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া উচিত।
লারা লেখেন, ক্রিকেট মাঠে ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর মুখোমুখি দেখা হয়েছিল মাত্র কয়েকবার। তবে সেই অল্প সময়েই ইমরানের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছিল, যা এখনও অটুট। তাঁর কথায়, একসময় যিনি নিজের দেশের মানুষের কাছে আশা, গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক ছিলেন, তিনি কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে রয়েছেন যে তাঁর যথাযথ যত্নও নেওয়া হচ্ছে না, তা বুঝতে পারছেন না তিনি।
প্রাক্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক আরও বলেন, ইমরানকে যথাযথ এবং স্বাধীন চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি একজন মানুষের প্রাপ্য মর্যাদাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিষয়টি কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন লারা। তাঁর মতে, এটি নিছকই মানবিকতার প্রশ্ন।
৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি। দুর্নীতির একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর দীর্ঘ কারাবাস চলছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও তাঁর চিকিৎসা ও মানবিক ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন।
ইমরানের সঙ্গে লারার ক্রিকেটীয় সম্পর্কও রয়েছে। ১৯৯০ সালের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাকিস্তান সফরে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইমরানের মুখোমুখি হয়েছিলেন লারা।
ইমরানের চিকিৎসার দাবিতে ভারতের সুনীল গাভাসকর, কপিল দেব, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল এবং অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়কের যথাযথ চিকিৎসা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।
সম্প্রতি বিষয়টি ফের আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনায় আসে ইমরানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিমের বক্তব্যের পর। ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্টের সময় স্কাই স্পোর্টসের সম্প্রচারে প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। সেই সাক্ষাৎকারে বাবার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন দুই ভাই। সব মিলিয়ে, ইমরান খানের চিকিৎসা ও মানবিক ব্যবহারের দাবি এখন ক্রিকেট বিশ্বের একাধিক প্রাক্তন তারকার কণ্ঠে আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।