শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ২, তিন পুলিশসহ কয়েকজন আহত ◈ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তে ভারতের বড় ধাক্কা, চুক্তি কার্যকর রাখার রায় আন্তর্জাতিক আদালতের ◈ বা‌র্সেলোনা-‌রিয়াল মা‌দ্রিদ মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো ২৫ অ‌ক্টোবর ◈ বি‌লিয়ন ডলার খরচ ক‌রে বোয়িং থেকে নতুন করে বিমান কেনা লাভের নাকি চাপের? ◈ এশিয়ান গেমসের অব্যবস্থার দায় পি‌সি‌বির চেয়ারম‌্যান মহ‌সিন নকভির ঘাড়ে ◈ দুবাই ছাড়লেন বেনজীর আহমেদ, অবস্থান জানতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ পুলিশ ◈ মেসি নেই, এখন থে‌কে নতুন ছকে এগোবে আর্জেন্টিনা ◈ এআই ক্যামেরার পর ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে আসছে ড্রোন ◈ পর্যটকশূন্য সেন্টমার্টিনে নীরব দুর্ভিক্ষ, আয়-রোজগার হারাচ্ছেন দ্বীপবাসী ◈ হৃদয়ের ট্রিপল শত‌কে ভর ক‌রে দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার স‌ঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ এ' দল

প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ দুপুর
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

এশিয়ান গেমসের অব্যবস্থার দায় পি‌সি‌বির চেয়ারম‌্যান মহ‌সিন নকভির ঘাড়ে

স্পোর্টস ডেস্ক : মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) ব্যর্থতার জন্য এশিয়ান গেমসে মূল্য চোকাতে হবে ক্রিকেটারদের। ক্রিকেট দলগুলির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছেন নকভিরা। এশিয়ান গেমসের আয়োজকদের বোঝাতে পারেননি এসিসি কর্তারা। পরিস্থিতি এমনই যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জাপানে দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এবারের এশিয়ান গেমসের আয়োজক জাপান। আইচি নাগোয়ার আয়োজকেরা ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে পারেননি। খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা থেকে খেলার আয়োজন— বিতর্ক তৈরি হয়েছে সব কিছু নিয়েই। ক্রিকেটের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন তা আয়োজকদের বোঝাতেই পারেননি নকভিরা। স্বভাবতই পাকিস্তানের অ‌ভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রীর প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 

শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং নকভির নিজের দেশ পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। নকভি আবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) শীর্ষ কর্তাও। তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি সংস্থার কাছে অসন্তুষ্ট তাঁরই নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট বোর্ড!

এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী সব খেলোয়াড়, কোচ, কর্তাদের থাকার সুব্যবস্থা করার দায়িত্ব নিশ্চিত ভাবে আইচি নাগোয়ার আয়োজকদের। তবে এসিসিও দায় এড়াতে পারে না। কোন খেলার জন্য কী ধরনের পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকে সংশ্লিষ্ট খেলার এশীয় নিয়ামক সংস্থাই। সব আয়োজন ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা, তা দেখভাল করার দায়িত্ব তাদের। দায় এড়াতে পারে না নকভির এসিসি।

এশিয়ান গেমসে খেলোয়াড়দের থাকার জন্য মূলত অস্থায়ী ব্যবস্থা করেছে জাপান। কিছু সংখ্যক আবাসন থাকলেও অধিকাংশ খেলোয়াড়কে রাখা হবে বিশেষ তাঁবুতে বা নোঙর করা জাহাজে।

 ইচ্ছা হলে শহরের পছন্দের হোটেলেও থাকতে পারেন খেলোয়াড়েরা। সে ক্ষেত্রে তাঁদের নিজের ব্যবস্থা করে ট্রেনে চেপে গেমস ভিলেজ বা খেলার জায়গায় পৌঁছোতে হবে। এই ধরনের ব্যবস্থায় অভ্যস্ত নয় ক্রিকেট দলগুলি। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডগুলি তাদের দলের জন্য সাধ্য মতো সেরা ব্যবস্থা করে। 

বয়স ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেই সে ভাবে অভ্যস্থ হয়ে যান ক্রিকেটারেরাও। ট্রেনে চড়ে খেলতে যাওয়া বা তাঁবুতে রাত কাটানোর অভ্যাস নেই তাঁদের। তা ছাড়া প্রচুর ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম নিয়ে ট্রেনে চড়ে অনুশীলনে বা খেলতে যাওয়াও অসম্ভব। হারিয়ে যাওয়া বা সরঞ্জামের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তাতে।

গেমস ভিলেজ থেকে বেশ কিছুটা দূরে মূল শহরের হোটেল থেকে যাতায়াত করা সম্ভব হবে না শ্রেয়স আয়ার, হরমনপ্রীত কৌর, লিটন দাস, রশিদ খান বা শাহিন আফ্রিদিদের পক্ষে। এ ছাড়া এশিয়ান গেমসের আয়োজকেরা মাঠের পাশে অস্থায়ী সাজঘরের ব্যবস্থা করেছেন। শৌচালয়ও অস্থায়ী। তা আবার সাজঘর থেকে ৫০০ মিটার দূরে। এটাও ক্রিকেট খেলার জন্য বড় সমস্যা।

এশিয়ান গেমসের আয়োজকেরা এবং অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়ার কর্তারা জানিয়েছেন, ১৭ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের (জুলাই) মধ্যে যাঁদের নাম নথিবদ্ধ করা হয়েছে, তাঁদের থাকার কোনও সমস্যা হবে না। অতিরিক্ত ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। বাকি সকলের মতোই ব্যবস্থা করা হয়েছে ক্রিকেট দলগুলির জন্যও। এই ব্যবস্থা নিয়েই তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। গেমসের ব্যবস্থা ক্রিকেটের উপযোগী নয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উদ্যোগী হয়েছে এসিসি। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। 

আয়োজকেরা জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন করে কোনও ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। বাজেটের বাইরে গিয়ে তাঁরা খরচ করবেন না। নকভিরা সময় মতো সমস্যার বিষয়গুলি নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হত না।

ক্রিকেট দলগুলিকে কোথায় রাখা হবে, যাতায়াতে কী ব্যবস্থা থাকবে, হোটেল বা আবাসনে কেমন মানের ঘর দেওয়া হবে, কেমন সাজঘর হচ্ছে— এ সব নিয়ে কয়েক মাসে এসিসির উদ্যোগী হওয়া উচিত ছিল। অভিযোগ সময় এবং সুযোগ থাকতে কোনও কিছুই খতিয়ে দেখেননি এসিসি কর্তারা। 

বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ড অসন্তোষ প্রকাশ করার পর সমাধানে উদ্যোগী হয়েছেন নকভিরা। যখন কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এসিসির প্রধান হিসাবে দায় এড়াতে পারেন না নকভিও। কারণ তিনি পাকিস্তানের মতো ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের বোর্ড প্রধান।

  • সর্বশেষ