শিরোনাম
◈ এআই ক্যামেরার পর ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে আসছে ড্রোন ◈ পর্যটকশূন্য সেন্টমার্টিনে নীরব দুর্ভিক্ষ, আয়-রোজগার হারাচ্ছেন দ্বীপবাসী ◈ হৃদয়ের ট্রিপল শত‌কে ভর ক‌রে দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার স‌ঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ এ' দল ◈ লিড টাইমে পিছিয়ে বাংলাদেশ, পোশাকের কার্যাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে ভারত ◈ এশিয়ান গেমসের বাংলা‌দেশ দল ঘোষণা, নেই নাহিদ রানা ও তাসকিন আহ‌মেদ ◈ সাত পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত ◈ গুম প্রতিরোধ আইন ২০২৫-এর অধ্যাদেশের চেয়ে শক্তিশালী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ নতুন দায়িত্ব পেলেন আমানউল্লাহ আমান ◈ যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসা বন্ড সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির, বাড়াতে চান বাণিজ্য-সহযোগিতা ◈ শরীর-মন সতেজ করতে ইউরোপের ১১ স্পা শহর ও বিলাসবহুল ওয়েলনেস গন্তব্য: কী আছে, কেন এত আকর্ষণীয়

প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৪৯ সকাল
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এআই ক্যামেরার পর ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে আসছে ড্রোন

রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার পর এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স (নজরদারি) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ইতোমধ্যে ট্রাফিক কর্মকর্তাদের ড্রোনের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণসহ নানা কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে ড্রোনের ব্যবহার শুরু করতে পারে ডিএমপি।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত, সতর্কবার্তা প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। ট্রাফিকে নতুন এ প্রযুক্তি যুক্ত হলে রাজধানীতে যানজট অনেকাংশ কমে আসবে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ড্রোন সার্ভিলেন্স পৃথিবীর বহু দেশে আছে। তবে এটি আমাদের জন্য একেবারে নতুন একটি কনসেপ্ট। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজট তৈরি হয়। এসব যানজটের সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা জানতে দেরি হয়। সে জন্য আমরা চিন্তা করেছি, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় যদি আমরা ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম ইনফরমেশন দেবে। এতে আমাদের জন্য নির্দেশনা দিতে সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, ড্রোনে যদি অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়, তাহলে এখান থেকে ভিডিও মামলা দেওয়া সম্ভব হবে।

আনিছুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজে থামে না। এটা না থামার প্রধান কারণ, বাসগুলো মালিকপক্ষ থেকে কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়। এগুলো মালিকের নিয়ন্ত্রণে নেই। শ্রমিকরা বাস চুক্তিতে নিয়ে চালান। বাসের কন্ডিশন অনুযায়ী, প্রতিদিন তারা মালিককে টাকা দেন। এর ফলে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করেন যে, তাকে প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিন দিতে হবে, আদায় করতে হবে। এ কারণে বাসগুলো যাত্রী ছাউনিতে না থামিয়ে ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে থামান এবং পেছনের পুরো রাস্তা ব্লক করে দেন।

তিনি জানান, উন্নত দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস চলাচল করে। কোন বাসের পর কোন বাস আসবে এবং কোন বাস কখন কোথায় দাঁড়াবে—সবকিছু একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে বাসগুলো যাত্রী পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ফলে ঢাকা শহরের প্রায় সব বাসের গায়ে অসংখ্য দাগ ও ক্ষত দেখা যায়। দেখতে অনেকটা বসন্ত রোগীর মুখের মতো। এটা যতদিন পর্যন্ত বন্ধ না হবে এবং ই-টিকিটিং সিস্টেম ও বাস রুট রেশনালাইজেশন—এই দুইটা কাজ যথাযথভাবে করতে না পারবো, ততদিন পর্যন্ত এই ভোগান্তি কমবে না।

ড্রোনগুলো ঠিক কী ধরনের কাজ করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্কবার্তা দেওয়া যাবে। যেমন: কোনো গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোন থেকে বলা যাবে, ‘আপনি যানজট সৃষ্টি করছেন, সরে যান’।

তিনি বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলাও করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। তবে এটি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কাছে একটি ড্রোন দিয়েছে। আমরা সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আশা করছি, খুব দ্রুত এটি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারবো।

আনিছুর রহমান বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে একদম রিয়েল টাইম ডেটা পাওয়া সম্ভব। তবে এগুলো পেতে আমাদের অবকাঠামো লাগবে। কারণ এগুলো সবই হচ্ছে ইন্টারনেট বেইজড, সার্ভার বেইজড। এগুলোর জন্য স্পেস দরকার, অবকাঠামো দরকার। এগুলোর জন্য ব্যয় আছে। কারণ প্রতি মুহূর্তে তো খরচ। আপনি যখন ইন্টারনেট ইউজ করবেন, ইন্টারনেট তো আপনাকে কারো না কারো কাছ থেকে নিতে হবে। সেখানে পয়সা খরচ হবে।

ড্রোনের মাধ্যমে যে মামলা হবে, সেটি কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে, নাকি ফুটেজ দেখে ম্যানুয়ালি মামলা দেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পর্যায়ে যাইনি। তবে এভাবে মামলা দেওয়া সম্ভব। আমরা চাই, কারও সঙ্গে যেন সামান্যও অনিয়ম বা অন্যায় না হয়। এ কারণে আমরা মামলার ফুটেজগুলো প্রথমে বিশ্লেষণ করি। এরপর মামলা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি বারবার সবাইকে একটি কথা বলি, মামলার সংখ্যা বাড়িয়ে কখনও কাজের মান বিচার করা যায় না; বরং বেশি মামলা হওয়ার অর্থ হলো, বেশি মানুষ ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করছে। আমাদের লক্ষ্য বেশি মামলা দেওয়া নয়। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো- মানুষ যেন সড়ক আইন মেনে চলে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ড্রোন চালানো একটি কারিগরি বিষয়। তাই আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছি। প্রথমে তেজগাঁও বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেখানে আমাদের একটি দল ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণও শেষ হয়েছে। বাকি জোনের ট্রাফিক সদস্যদেরও ক্রমান্বয়ে দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি এই প্রশিক্ষণ শেষ ও অন্যান্য ইকুইপমেন্ট বসানোর পর চলতি মাসের শেষ দিকে ড্রোনের ব্যবহার শুরু করা যাবে।

আনিছুর রহমান বলেন, শুরুতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ আমরা আগে এভাবে কাজ করিনি। আমরা প্রথমে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে কাজ শুরু করেছি। শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডে একটিসহ মোট ১৫টি সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএমপির অন্যান্য সিগন্যালও রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে দেখতে চেয়েছিলাম, এই ব্যবস্থা কাজ করে কিনা। আপাতত কাজ করছে। তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে। এরপরও আমরা চেষ্টা করছি, মানুষ যেন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে শেখে। আশা করি, ড্রোনের ক্ষেত্রেও সময় লাগবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন 

  • সর্বশেষ