স্পোর্টস ডেস্ক : উনচল্লিশ বছর বয়সে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণার পর এখন সত্যিই তাদের মেসি পরবর্তী যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শুধু আর্জেন্টিনারাই নয়, তর্কাতিতভাবে সর্বকালের সেরা মেসির বিকল্প খোঁজা যে অলীক স্বপ্নের মতো সেটা সবারই জানা। নতুন বাস্তবতায় আলবিসেলেস্তাদের ভবিষ্যতে পরিকল্পনা কেমন হতে পারে?
মেসি—এক অর্থে সম্পূর্ণ অপূরণীয়। মেসির মতো খেলোয়াড় যুগে যুগে একবারই জন্মায়, তাও কদাচিৎ। তাঁর মতো জাদুকর যুগে যুগে জন্মায় না বললেই চলে। ফুটবল ভাগ্যদেবী অবশ্য আর্জেন্টিনার ওপর বেজায় প্রসন্ন; নইলে কি আর একই জীবনে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর মেসির মতো মহারথীকে পায় কোনো দেশ!
আর্জেন্টিনার উচিত মেসির মতো সবকিছু করতে পারে—এমন কোনো নতুন খেলোয়াড়ের খোঁজ করার লোভ সংবরণ করা। এমনকি যদি এমন কেউ থেকেও থাকে, তবুও তার কাঁধে যে প্রত্যাশার পাহাড় চাপবে, তাতেই সে হয়তো একপ্রকার পিষ্ট হয়ে যাবে।
এর বদলে লিওনেল স্কালোনির দল এখন যে সহজ কাজটি করতে পারে তা হলো, মেসির যাবতীয় দায়িত্ব পুরো দলের মাঝে ভাগ করে দেওয়া।
দলের আক্রমণভাগের মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত ও স্পষ্ট প্রার্থী হুলিয়ান আলভারেজ। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সময় তাঁর বয়স হবে ৩০ এবং আশা করা যায় সে সময় আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড ক্যারিয়ারের ঠিক চূড়ার কাছাকাছি থাকবেন। মেসির মতো জাদুকরী সৃজনশীলতা তাঁর না থাকলেও, দলকে গোল, দুর্দান্ত মুভমেন্ট এবং শীর্ষ পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা উপহার দিতে পারেন তিনি।
মিডফিল্ড গোছাতে আর্জেন্টিনার রয়েছে দারুণ একটি ভিত্তি, যার ওপর দাঁড়িয়ে তারা দল গঠন করতে পারে। এনজো ফার্নান্দেজ এবং ম্যাক অ্যালিস্টার দলের কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে থাকবেন, অন্যদিকে রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতা যোগাবেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। নিকো পাজ হতে পারে এমন একটি বিকল্প, আর ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো তো অত্যন্ত প্রতিভাবান এক তরুণ সম্ভাবনার নাম। এছাড়া আলেহান্দ্রো গারনাচো, মাতিয়াস সুলে এবং ক্লাউদিও এচেভেরি প্রমাণ করে যে আর্জেন্টিনার প্রতিভাবান আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের কোনো কমতি নেই। তাদের কাছে যা নেই, তা হলো আরেকটি মেসি।
এটাও ভুলে যাওয়া সহজ যে, মেসি সবসময় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে সমানভাবে ভালোবাসার পাত্র ছিলেন না; কারণ কৈশোরের শুরুতেই ইউরোপে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর আগে তাঁরা তাঁকে দেশের মাটিতে সেভাবে খেলতেই দেখেননি।
আসলে, তাঁর উপস্থিতিতে দল বড় টুর্নামেন্টগুলোতে বেশ কয়েকবার শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হওয়ায় তিনি প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তেন। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, ২০১৬ সালে তিনি ক্ষণিকের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেই অবসর নিয়েছিলেন, যদিও পরে সিদ্ধান্ত বদলান। এর মানে এই নয় যে আর্জেন্টিনা আর সফল হতে পারবে না। তবে বহু বছর ধরে দলকে নিয়মিত খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা সেই ম্যাজিশিয়ানকে ছাড়াই এখন তাদের জয়ের নতুন পথ খুঁজে নিতে হবে।