স্পোর্টস ডেস্ক : সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অ্যাস্টন ভিলা ছাড়লেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ‘দেবু’ মার্তিনেজের নতুন ঠিকানা এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট চেলসি। প্রায় ৭৫ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে পা রাখা ৩৩ বছর বয়সী এই গোলককিপারের ক্লাবটির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছেন, এরসঙ্গে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে আরও এক বছর।
চেলসিতে যোগ দিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘এই ক্লাবে যোগ দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার এবং আমার পরিবারের জন্য চেলসিতে আসাটা খুবই সহজ একটি সিদ্ধান্ত ছিল। আমি দারুণ রোমাঞ্চিত এবং দ্রুত মাঠে নামার জন্য তর সইছে না।’
‘লে ব্লুজদের’ হয়ে নিজের লক্ষ্য নিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি এখানে সফল হতে চাই। আমি এমন একজন মানুষ যে যেকোনো কাজেই জিততে পছন্দ করে এবং সেই জেতার মানসিকতাই আমি এই ক্লাবে নিয়ে আসতে চাই। কারণ এটি এমন একটি ক্লাব যারা শিরোপা জিততে জানে, তাই আমি মনে করি আমাদের এই জুটি দারুণ মানানসই হবে।’
পেনাল্টি ঠেকানোর অসাধারণ দক্ষতা এবং মাঠের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা মার্তিনেজকে সবার থেকে আলাদা করেছে। তাঁর বর্ণিল ক্যারিয়ারে রয়েছে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিফা বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২১ ও ২০২৪ সালে ব্যাক-টু-ব্যাক কোপা আমেরিকা জয়ের গৌরব। প্রতিটি আন্তর্জাতিক সাফল্যের মঞ্চেই সেরা গোলকিপারের গোল্ডেন গ্লাভস পুরস্কার জিতেন।
এছাড়া ২০২২ ও ২০২৪ সালে তিনি 'দ্য বেস্ট ফিফা মেনস গোলরক্ষক' এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ইয়াসিন ট্রফি জিতেন মার্তিনেজ। এমনকি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউয়েফা ইউরোপা লিগ জিতে তিনি ইউরোপীয় মঞ্চেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে রবার্ট সানচেজের ধারাবাহিকতাহীন পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার মুখেই মূলত মার্টিনেজকে দলে ভিড়াল চেলসি। বিশেষ করে ফুলহামের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের এক ম্যাচে সানচেজের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর, চেলসি কোচ জাবি আলোনসো নতুন গোলকিপার খোঁজাটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সই করলেও, শেষ পর্যন্ত ভিলা পার্কে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত বিদায় নিশ্চিত হয় মার্তিনেচজের। জাপানি গোলকিপার জিয়ন সুজুকিকে দলে ভেড়ানোর পরই মূলত ভিলায় মার্তনেজ অধ্যায়ের ইতি ঘটে।
অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ক্যারিয়ারে মার্তিনেজ মোট ২৫৫টি ম্যাচ খেলেছেন এবং সমর্থকদের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠার পাশাপাশি অনেক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করেছেন। তাঁর এই প্রস্থান উনাই এমেরির দলের জন্য গোলপোস্টের নিচে এক নতুন যুগের সূচনা করলো।