শিরোনাম
◈ লড়াই ক‌রেও ফাইনালে ওঠা হলো না বাংলা‌দেশ এইচপি দ‌লের ◈ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সফরের আমন্ত্রণ ◈ ‘৬ মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’—সংসদে স্পিকারের প্রশ্ন ◈ বিপিএল ইস‌্যু‌তে বিসিবির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট ক্রিকেটাররা ◈ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা ◈ ই-কমার্সে প্রতারণার জাল ভাঙতে ৩ নির্দেশনা, গ্রাহকের পাওনা প্রায় ৩,৮৬৯ কোটি টাকা ◈ তফসিলের আগেই মাঠে বিএনপি প্রার্থীরা, একক প্রার্থী নির্ধারণে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ ◈ ৭৫ লাখ পাউন্ডে চেলসির গোলপোস্টের নতুন প্রহরী আ‌র্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ◈ ছিনতাইকারীর টানে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, গ্রেফতার আসামিদের নিয়ে যা জানালো র‌্যাব ◈ সংসদে মির্জা ফখরুলের চেয়ারে বসছেন সালাহউদ্দিন আহমদ, উপনেতা হচ্ছেন কি

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫৬ বিকাল
আপডেট : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫৬ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কালীগঞ্জ বাফার সার গুদামে ডিসপাসের নামে চাঁদাবাজি 

ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বিসিআইসি’র বাফার সার গুদামের ইনচার্জ অহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ডিসপাসের নামে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গুদামে সার খালাস না করেই ছাড়পত্র প্রদান, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং পছন্দের ডিলারদের দ্রুততম সময়ে সার পাইয়ে দেওয়ার মতো অনিয়ম তিনি করে যাচ্ছেন নিয়মিত। ডিসপাস সুবিধা দিয়ে ডিলারদের নিকট গাড়ি পাঠানোর কারণে তিনি ডিলারদের দেওয়া ঘুষের টাকা ড্রাইভার এর মাধ্যমে গ্রহণ করেন।

যোগদানের পর থেকেই সরকারি নিতীমালাকে উপেক্ষা করে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিসিআইসি ডিলার মেসার্স তাজু এন্টারপ্রাইজ(ছন্মনাম) অভিযোগ করেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ট্রাক বাফার গোডাউনে আনলোড না করেই জরুরি সেবার (ডিসপাস) নামে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারদের নামে সারের ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সার খালাস না হলেও প্রতি চালানে লেবার খরচসহ আনুসঙ্গিক খরচ বাবদ ট্রাক চালকদের মাধ্যমে অবৈধ টাকা গ্রহণ করে থাকে গোডাউন ইনচার্জ অহিদুজ্জামান।

অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের কারণে অতিরিক্ত খরচ বাড়ায় প্রান্তিক ডিলাররা খরচ পোষাতে কৃষকদের নিকট অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের মূল্য ১৩৫০ টাকা নির্ধারন করলেও তা সঠিক ভাবে কার্যকর হচ্ছে না মাঠপর্যায়ে। এছাড়া ডিসপাসের মাধ্যমের সারের গাড়ি ছাড়পত্র দেওয়াই  দীর্ঘদিন ধরে অনেক সার গুদামেই  আটকে থাকে। ফলে ঐ ইউরিয়া সার জমাট বেঁধে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়।পরবর্তীতে সারের কার্যক্ষমতা হারায় ।ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ বাফার গোডাউন থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ১২টি উপজেলার সার বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই গুদামের অধীনে মোট ১২৬ জন বিসিআইসি ডিলার রয়েছেন।সরোজমিন গিয়ে দেখা যায়, নোয়াপাড়া থেকে ছেড়ে আসা ঝিনাইদহ - ট - ১১৩১ নাম্বারের একটি ট্রাক বিকাল ৬টা ২০ মিনিটে গোডাউনে প্রবেশ করে মাত্র ১৫ মিনিট পর শৈলকূপার উদ্দেশ্যে গুদাম ত্যাগ করে। এ সময় ট্রাক চালক রাশেদুল ইসলাম জানান, গাড়িটির সার আনলোড করা হয়নি, শুধুমাত্র ডিসপাস করা হয়েছে। প্রতিদিন যেভাবে টাকা দিই ওইভাবেই টাকা দিয়ে আমরা ডিসপাসের কাগজ নেই। বাফার সার গোডাউনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে ১১ হাজার ৭৬ মেট্রিক টন এবং আগস্ট মাসে ১৪ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে। তন্মধ্যে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ৭ হাজার ২৪৭ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিসিআইসি ডিলারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গুদাম ইনচার্জ অহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু গাড়ি ডিসপাসের মাধ্যমে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এভাবে সার দেওয়ার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারিভাবে নিয়ম না থাকলেও আমরা ডিলারদের সুবিধার্থে সেটা করে আসছি। তবে অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে বিপণন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মঞ্জুর রেজা জানিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। সার নিয়ে কেউ অনিয়ম বা দুর্নীতি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, সার গোডাউনের ডিসপাসের ব্যাপারে গোডাউন ইনচার্জকে ডেকে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নিতে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। 

  • সর্বশেষ