ওয়ানডে সিরিজে খর্ব শক্তির দল নিয়ে খেললেও টি-টোয়েন্টিতে শক্তি বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তার ফলও হাতেনাতে পেয়েছে। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে অজি দল। ১৩২ রানের লক্ষ্য ১০ বল হাতে রেখেই স্পর্শ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ শুরুতে ১৩ রানে জশ ইংলিসকে তুলে নিয়ে তাদের চাপে ফেলার চেষ্টা করেছে। পাওয়ার প্লেতে তুলে নেয় মিচেল মার্শের (১৩) উইকেটও। তার পরই ইনিংসে গতি ফেরান কুপার কনোলি ও টিম ডেভিড। ২৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৭ রান করা কনোলি এই জুটিতে ৪০ রান যোগ করেন। কনোলিকে ফিরিয়ে এই জুটি ভেঙে স্বস্তি ফিরিয়েছিলেন অভিষিক্ত আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন। দ্রুত টিম ডেভিড (২০) কে তুলে নিয়েছিলেন মেহেদী হাসানও। তাতে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পুঁজি কম থাকায় প্রয়োজনীয় চাপটা আর তৈরি করতে পারেনি তারা। এই সময় নিখিল চৌধুরী ১৩ বলে ১৮ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে দলকে জয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তার পর ম্যাট রেনশর (১৮) উইকেট পড়লেও ততক্ষণে জয়ের কাছে পৌঁছে গেছে অজি দল। ৬ উইকেট হারানো দলটি লক্ষ্য স্পর্শ করেছে ১৮.২ ওভারে।
বাংলাদেশের হয়ে ৩২ রানে দুটি উইকেট নেন আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন। একটি করে নেন শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেন।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার স্পিন আক্রমণের সামনে স্বাগতিকরা এক ওভার বাকি থাকতেই ১৩১ রানে অলআউট হয়ে যায়।
শুরুর দিকে অবশ্য দারুণ সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান দ্রুত ২৬ রান যোগ করেন। তবে বাঁহাতি পেসার স্পেন্সার জনসনের বলে শট খেলতে গিয়ে আউট হন তানজিদ। তাতে ৯ বলে ১০ রানে ফেরেন তিনি।
এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাইফও। রেনশর অফ স্পিনে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন ১৪ বলে ২০ রানে। সাইফের বিদায়ে ৪.৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩৯ রান।
অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা তাওহীদ হৃদয় প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ঝড়ো সূচনা করেন। তবে সেই আগ্রাসন ধরে রাখতে পারেননি। ৮ রান করে জাম্পার শিকার হন তিনি। সৌম্য সরকার পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও সফল হননি। ১৮ বলে ১৭ রান করে তিনিও জাম্পার বলে আউট হন। এর পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকলে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। স্কোর দাঁড়ায় ৮৬ রানে ৭ উইকেট!
ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে এই সময় দলের হাল ধরেন মেহেদী হাসান। ২২ বলে চারটি চারের সাহায্যে অপরাজিত ২৯ রান করে বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন তিনিই।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অ্যাডাম জাম্পা চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা জোয়েল ডেভিস তিন ওভারে ১৭ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ম্যাট রেনশ দুটি উইকেট এবং অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরীও একটি উইকেট নেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্পিনাররা মোট ৯টি উইকেট নিয়েছেন। যা টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে দলটির স্পিনারদের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মাটিতে কোনো টি-টোয়েন্টিতে স্পিনারদের ৯ উইকেট নেওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা।