বিশ্ব ক্রিকেটে ওয়ানডে ফরম্যাটে এক ঐতিহাসিক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই নিজেদের ১০০০তম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অনন্য কীর্তি স্পর্শ করে তারা।
ক্রিকেট ইতিহাসের দীর্ঘ ৫৩ বছরের ওয়ানডে পথচলায় ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার পর বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ক্রিকেট দল হিসেবে ওয়ানডের এই মাইলফলক স্পর্শ করার অনন্য গৌরব অর্জন করেছে পাকিস্তান।
১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের খাতা খুলেছিল পাকিস্তান। তৎকালীন অধিনায়ক ইন্তিখাব আলমের হাত ধরে শুরু হওয়া সেই পথচলা আজ শাহীন শাহ আফ্রিদির হাত ধরে ১০০০তম ম্যাচের মহোৎসবে রূপ নিল। ৫৩ বছরের এই দীর্ঘ ওয়ানডে ইতিহাসে পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্বকে উপহার দিয়েছে ইমরান খান, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শহীদ আফ্রিদি থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের বাবর আজমের মতো বিশ্বসেরা সব কিংবদন্তি।
পাকিস্তানের এই হাজার ম্যাচের ইতিহাস কেবল সংখ্যার বিচারে নয়, বরং ট্রফি ও সাফল্যেও দারুণ সমৃদ্ধ। দলটির ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে সোনালী মুহূর্তটি এসেছিল ১৯৯২ সালে, যখন মেলবোর্নে ইমরান খানের দল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল। এছাড়া বাবর আজমের নেতৃত্বে ২০২৩ সালে আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান দখল এবং ২০১৭ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দী ভারতকে হারিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় পাকিস্তানের ওয়ানডে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
রাওয়ালপিন্ডির এই ঐতিহাসিক উৎসবের ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বাগতিক অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। পাকিস্তান দলকে অনন্য এই রেকর্ডের দিনে আরও রাঙিয়ে তুলতে ম্যাচটিতে অভিষেক ঘটানো হয়েছে ২১ বছর বয়সী তরুণ বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাসের।
একই ম্যাচে অজি শিবিরেও ওয়ানডে ক্যাপ মাথায় তুলেছেন ১৯ বছর বয়সী মারকুটে ব্যাটার অলিভার পিক।