স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেগা প্রকল্প হিসেবে পূর্বাচলে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যার নকশা ছিল নৌকার আদলে। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভেঙে যায় নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ড।
এরপর ফারুক-বুলবুলের নেতৃত্বে নতুন বোর্ড এসে স্টেডিয়ামের নাম ও নকশায় পরিবর্তন আনে। এবার দায়িত্ব নিয়ে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, পুরো নকশা বদল না করে আংশিক পরিবর্তন আনা হবে। শনিবার পূর্বাচলে মাঠ পরিদর্শনে যান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তারা। এক প্রশ্নের উত্তরে তামিম বলেন, আজ প্রতিমন্ত্রী পুরো ডিজাইনটি দেখেছেন। আমরা তাকে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছি।
কিছু জায়গায় পরিবর্তন প্রয়োজন, তবে শুধু পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তন নয়; যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই করা হবে।
ফারুক ও আমিনুলের বোর্ড পূর্বাচল স্টেডিয়ামের যে ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করেছে, তামিম তাদের সঙ্গে আবার আলোচনা করবেন। প্রয়োজনে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথাও জানান তিনি, আমরা ডিজাইনারদের সঙ্গে আবার আলোচনা করব। প্রয়োজনে অন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও কথা বলে এনএসসির সঙ্গে সমন্বয় করে এগোব। কারণ একটি বড় স্টেডিয়াম নির্মাণে সরকারের বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।
পূর্বাচলে শুরুতে কেবল ক্রিকেটকেন্দ্রিক সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বিসিবি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রিকেটের পাশাপাশি আরও কয়েকটি খেলাকে গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘পূর্বাচলে বরাদ্দকৃত মাঠে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ অবশ্যই হবে, ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি এখানে মাল্টিপারপাস স্পোর্টস সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে ক্রিকেট বোর্ড, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চাই, এ প্রকল্প নিয়ে আর কোনো জটিলতা বা বিতর্ক না থাকুক। সবকিছু সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্বাচলে আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও অন্যান্য ক্রীড়া সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
আমিনুলের সুরে সুর মিলিয়ে তামিমও বলেন, এটি বড় একটি প্রকল্প। ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য খেলাগুলোকেও এখানে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাননীয় মন্ত্রীও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ক্রিকেট বোর্ড আর্থিকভাবে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, তাই অন্যান্য খেলাধুলার উন্নয়নেও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই এই প্রকল্পে বিভিন্ন স্পোর্টস যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।