মনিরুল ইসলাম: রাজধানীসহ সারাদেশে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতীয় সংসদে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে দ্রুত যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গাজীপুর-৪ আসনের সদস্য সালাহ উদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় এক নারী শিক্ষকের মৃত্যু, বিমানবন্দরে স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ধানমন্ডিতে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই, মুগদা হাসপাতালে প্রকাশ্য ছিনতাই এবং যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে হত্যার মতো ঘটনাগুলোর উদাহরণ তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গ্রামাঞ্চলেও চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে গাড়ি চুরি ও সিঁধেল চুরি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানির অভিযোগও তোলেন তিনি। তার মতে, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও অক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো বিশেষ অভিযান চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহার রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে টাকা আদায় করে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চায়ের দোকান বসাতে ২০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য দোকানের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।
চাঁদাবাজিকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়া একটি চক্র’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।