কলকাতায় আবারও বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীন সনাতনী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘বঙ্গসেনা’ নামের একটি সংগঠন। তবে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার কারণে উপহাইকমিশনের মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি বিক্ষোভকারীরা।
শনিবার শিয়ালদহ স্টেশন এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে সংগঠনের বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থকের পাশাপাশি গেরুয়া পোশাক পরা ব্যক্তিরা অংশ নেন। মিছিলটি বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পার্ক সার্কাসে অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের দিকে এগিয়ে যায়।
উপহাইকমিশনের কাছাকাছি পৌঁছালে কলকাতা পুলিশ ডাবল ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলটি আটকে দেয়। মিশন থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে বিক্ষোভকারীদের থামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সামান্য বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন সংগঠনের সদস্যরা।
বিক্ষোভের কারণে পার্ক সার্কাস ও আশপাশের এলাকায় কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। শনিবার উপহাইকমিশন বন্ধ থাকায় সংগঠনের প্রতিনিধিরা কোনো স্মারকলিপি জমা দিতে পারেননি। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই উপহাইকমিশন ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
বঙ্গসেনার সুভাষ মজুমদার বলেন, ‘আমরা ওই দেশে থাকতে পারছি না। নির্যাতন, গণহত্যা করে আমাদের ওই দেশ থেকে বিতাড়িত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো যারা অবশিষ্ট আছে তাদের ওপর প্রতিদিন অত্যাচার চলছে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানো জরুরি। সেই কারণেই আমাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি।’
উল্লেখ্য, চলতি অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে এটি দ্বিতীয় বিক্ষোভের ঘটনা। এর আগে গত ৩ অক্টোবর ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) এবং বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের সন্ন্যাসীরা একই ধরনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন। সেদিন তারা উপহাইকমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলেন।
বাংলাদেরশে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘিরে একাধিকবার বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে কলকাতা পুলিশকে।